ইরানে আরও কতদিন যুদ্ধ চালাবেন ট্রাম্প, জানালেন সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। পাল্টা হামলা চালায় ইরানও। এরপর এপ্রিলে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা স্থায়ী হয়নি।
গত ৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি ‘শেষ’ হয়ে গেছে ঘোষণা করলে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করে দুই পক্ষ।
ইতোমধ্যে এ যুদ্ধের ছয় মাস পার হলেও সংঘাতের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো দেখা যাচ্ছে না।
যুদ্ধ আরও কতদিন চলবে—এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেটা।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ আরও ছয় মাস কোনো সমাধান ছাড়াই চলার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে এমন এক অচলাবস্থায় রয়েছে, যেখান থেকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার স্পষ্ট কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না।
বারাক ওবামা প্রশাসনের অধীনে সিআইএ পরিচালক ছিলেন লিওন প্যানেটা। তিনি আশঙ্কা করছেন, এ সংঘাতটি ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যর্থ যুদ্ধে পরিণত হতে পারে।
প্যানেটার মতে, এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে মূলত তিনটি পথ রয়েছে—যুদ্ধ থেকে সরে গিয়ে পরাজয় মেনে নেওয়া, বর্তমান পাল্টাপাল্টি হামলার অচলাবস্থা চালিয়ে যাওয়া অথবা ইরানের ওপর আরও সামরিক চাপ বাড়িয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা।
তার মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ বন্ধ ও ব্যাহত করার সক্ষমতাই ইরানের সবচেয়ে বড় চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার।
তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে হয় হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে অথবা আমি যেমন বলেছি, অচলাবস্থার মধ্যেও কোনোভাবে তিনি জিতছেন—এমন ভান করে এই খেলা চালিয়ে যেতে হবে। অথচ বাস্তবতা হলো, তিনি জিতছেন না।
যুক্তরাষ্ট্র কী যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে?
যুক্তরাষ্ট্র কী এই যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে প্যানেটা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন এলেই কেবল এটি জয় করা সম্ভব। সেই পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে হবে, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।’
বিশেষ করে পেন্টাগনে সাম্প্রতিক অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কাছে দুর্বলতার বার্তা পাঠাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, প্রতিরক্ষা বিভাগ পুরো সক্ষমতা নিয়েই কাজ করছে।