নেপালে বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ ৪০৩ পর্যটক
আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২ জনে। দেশটির পুলিশের বরাত দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার এই খবর জানিয়েছে বিবিসি।
পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ৬৪ জনের মরদেহ চিতওয়ান জেলার ভাটি অঞ্চল থেকে এবং আরও ২৬ জনের মরদেহ পূর্ব নাওয়ালপরাসি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার তিব্বত সীমান্তের কাছে নেপালের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
এই দুর্যোগে এখনো কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৪০৩ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে বড় একটি অংশ ভারতের। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই প্রাণহানির ঘটনায় শোক জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রায় আট টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতসহ আরও বেশ কিছু দেশ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা ত্রাণ পাঠিয়েছে।
শুরুতে ভূমিকম্পের কারণে এই বন্যা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, হিমবাহ ধস এবং এর ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতই মূলত সেই ভূ-কম্পন তৈরি করেছিল।
বিজ্ঞানীরা বর্তমানে পুরো ঘটনার পর্যায়ক্রম অনুসন্ধানে কাজ করছেন। হিমালয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরফ গলার গতি বাড়লেও এই আকস্মিক দুর্যোগের পেছনে এর সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি আজ সকালে জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
সিসিটিভি জানায়, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জনই বিদেশি নাগরিক। তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৩ জনেই অপরিবর্তিত রয়েছে।
