যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়ার আগে সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূল থেকে জাপানের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। আজ বুধবার ভোরে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানায় সিউলের সামরিক বাহিনী।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল।
আগামী সোমবার থেকে ১১ দিনব্যাপী এই সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে নিয়মিত এই মহড়া আয়োজন করা হয়।
মূলত পারমাণবিক অস্ত্রধর উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও প্রস্তুত করার লক্ষ্যেই এই মহড়া পরিচালিত হয়।
তবে পিয়ংইয়ং এই মহড়াকে তাদের দেশে হামলার একটি ‘প্রস্তুতি’ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। এর আগেও তারা এ ধরনের যৌথ মহড়ার আগে ও পরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।
সিউলের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, আমাদের সামরিক বাহিনী আজ ভোর প্রায় ৬টার দিকে উত্তর কোরিয়ার উনসান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।
সিউল আরও জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এর সক্ষমতা ও কারিগরি দিকগুলো বিশ্লেষণ করে দেখছে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও একে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করেছে এবং জানিয়েছে যে এটি এরইমধ্যে সাগরে পড়েছে।
ক্যুংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর কোরিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ লিম ইউল-চুল এএফপিকে বলেন, ‘এর মাধ্যমে পিয়ংইয়ং এই বার্তাই দিচ্ছে যে তারা আসন্ন সামরিক মহড়াটির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বুধবারের এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টিকে ‘ ওই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি জানান, টোকিও বেইজিংয়ে অবস্থিত কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার কাছে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
জাপান একসময় এই অঞ্চলের ওপর ঔপনিবেশিক শাসন চালিয়েছিল। পিয়ংইয়ংয়ের অভিযোগ—জাপান আবারো তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। আর এই ইস্যুতেই সম্প্রতি টোকিওর কঠোর সমালোচনা করছে উত্তর কোরিয়া।