ভারতে সাইবার নিরাপত্তা কোর্সে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে ওয়েবসাইট হ্যাক করলেন শিক্ষার্থী

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) হলো ভারতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সরকারি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি, যেখানে ভর্তি হওয়া অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ।

সম্প্রতি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কানপুর ও মাদ্রাজ ক্যাম্পাস নিয়ে এক চমকপ্রদ খবর পাওয়া গেছে।

ওই দুই ক্যাম্পাসে চালু হওয়া ব্যাচেলর অব সাইবার সিকিউরিটি (বিসাইবার) প্রোগ্রামে ভর্তি হতে না পেরে এক শিক্ষার্থী দুই প্রতিষ্ঠানের সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ওই শিক্ষার্থীর দাবি, নিজের সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত দক্ষতা দেখানো এবং ন্যায্য সুযোগ পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি এই কাজ করেছেন!

ভারতের সরকারি গণমাধ্যম পিটিআই জানিয়েছে, ওই শিক্ষার্থী আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন, প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়েছিলেন এবং আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজের সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত কাজের বিস্তারিত তথ্যও জমা দেন।

তবে বিশেষায়িত এই স্নাতক কোর্সে ভর্তির অংশ হিসেবে আয়োজিত প্রাথমিক হ্যাকাথন পর্বের জন্য নির্বাচিত সংক্ষিপ্ত তালিকায় তিনি জায়গা পাননি।

এভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ওই শিক্ষার্থী আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইট আংশিকভাবে হ্যাক করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাক করা পেজের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন তিনি।

হ্যাকের পর আইআইটি কানপুরের ওয়েবসাইটের একটি পেজে লেখা ছিল, ‘সাইটটি হ্যাক করা হয়েছে। আমি শুধু একটি ন্যায্য সুযোগ চাই।’

পরে ওই শিক্ষার্থী ঘটনার দায় স্বীকার করেন। কারও ক্ষতি করার জন্য নয়, বরং নিজের দক্ষতা তুলে ধরতেই এ কাজ করেছেন—এমন দাবি করেন তিনি।

hacked page
হ্যাক করা পেজের স্ক্রিণশত। ছবি: রেডিট থেকে সংগৃহীত

পরে আইআইটি কানপুরের পরিচালক মনীন্দ্র আগরওয়াল বলেন, ‘চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তাই এখন তাকে ভর্তি করা সম্ভব নয়। তবে আমরা তাকে প্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাব, যথাযথ পরীক্ষার মাধ্যমে তার কারিগরি দক্ষতা মূল্যায়ন করব। যদি তিনি নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে পরবর্তীতে ভর্তির সুযোগ পাবেন।’

প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবলেও, শিক্ষার্থীর দাবি যাচাই এবং তার কারিগরি সক্ষমতা মূল্যায়নের আগ পর্যন্ত বিষয়টি মুলতবি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্মকর্তারা।

আনুষ্ঠানিক কারিগরি মূল্যায়নের জন্য তাকে ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি এখন বিবেচনা করছে আইআইটি কানপুর।

একই সঙ্গে শিক্ষক ও প্রকৌশলীদের ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে তাকে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো কম্পিউটার সিস্টেমে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করা আইনবিরোধী এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ করা উচিত নয়।

তরুণ প্রযুক্তি প্রতিভাদের সহায়তার ইতিহাস তুলে ধরে কর্মকর্তারা জানান, এর আগে সিবিএসইর অনলাইন স্ক্রিন-মার্কিং পোর্টালের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত করার পর এক তরুণকে আইআইটি কানপুরের সি৩আইহাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।