ধর্ষণের দায়ে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের চার বছরের কারাদণ্ড
নরওয়ের রাজপরিবারকে নাড়িয়ে দেওয়া এক বহুল আলোচিত মামলায় ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিতের ছেলে মারিয়ুস বর্গ হইবিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন অসলোর একটি আদালত।
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ সোমবার ঘোষিত রায়ে ২৯ বছর বয়সী হইবি দুটি ধর্ষণসহ মোট ৩৪টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।
তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, গার্হস্থ্য নির্যাতন, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, হুমকি প্রদান ও মাদক-সংক্রান্ত অপরাধসহ ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৬ বছরের কারাদণ্ড হতে পারত।
হইবি ২০০১ সালে ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সঙ্গে মেটে-মারিতের বিয়ের আগের সম্পর্কের সন্তান। তিনি নরওয়ের রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক সদস্য নন এবং কোনো রাজকীয় দায়িত্বও পালন করেন না।
আদালতের রায়ে বলা হয়, যে দুটি ধর্ষণের ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তার একটি ২০১৮ সালে ক্রাউন প্রিন্স দম্পতির সরকারি বাসভবনে সংঘটিত হয়েছিল।
তবে আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রসিকিউশন হইবির জন্য সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড চেয়েছিল।
অন্যদিকে, তার আইনজীবীরা তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ১৮ মাসের সাজা দেওয়ার আবেদন করেছিলেন।
ফেব্রুয়ারি থেকে আটক থাকা হইবি সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলো, বিশেষ করে ধর্ষণের অভিযোগ, অস্বীকার করে আসছিলেন।
প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো ঘটেছিল যখন ভুক্তভোগীরা ঘুমিয়ে ছিলেন বা অচেতন অবস্থায় ছিলেন।
সোমবার হইবি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে রায় ঘোষণা শোনেন।
আদালতকক্ষে উপস্থিত এক ধর্ষণ-ভুক্তভোগী নারী তার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় ঘোষণার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন।
রায় ঘোষণার পর হইবির আইনজীবীরা জানান, দুটি ধর্ষণ ও গার্হস্থ্য নির্যাতনের অভিযোগে দেওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন।
প্রসিকিউটর স্টুরলা হেনরিকসবো বলেন, 'এই রায় আমাদের বিচারব্যবস্থার জন্য একটি বিজয়। এটি দেখিয়েছে, আপনি যেই হন না কেন বা যারই আত্মীয় হন না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।'