আবার হামলা হলে ‘অস্ত্রমানের’ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের হুঁশিয়ারি ইরানের

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আরেক দফা হামলা চালানো হলে অস্ত্রমানের কাছাকাছি পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আজ মঙ্গলবার এ হুঁশিয়ারি দেন বলে জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

ওই পোস্টে তিনি বলেন, ‘আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটলে ইরানের বিকল্পগুলোর একটি হতে পারে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ।’

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি পার্লামেন্টে পর্যালোচনা করা হবে।

রয়টার্স জানায়, ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার ইউরেনিয়ামকে সাধারণত অস্ত্রমানের হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই মাত্রার ইউরেনিয়াম দিয়ে তুলনামূলকভাবে সহজে ছোট আকারের কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানে হামলার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যু।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। প্রযুক্তিগতভাবে এই ইউরেনিয়ামকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা খুব কাছাকাছি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে এই মজুত কোথায় রাখা হয়েছে এবং কী অবস্থায় রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এই মজুত সরিয়ে ফেলা বা ধ্বংস না করা গেলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানো কঠিন হবে।

ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্র। ছবি: রয়টার্স

গত প্রায় আড়াই মাস ধরে চলা সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুই এখন সবচেয়ে বড় বিরোধের জায়গা হয়ে উঠেছে।

তেহরান চায়, পারমাণবিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে হোক। অন্যদিকে ওয়াশিংটন চাইছে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে পাঠাক এবং নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে প্রতিশ্রুতি দিক।

দক্ষিণ ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সেটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি পরিস্থিতিকে ‘লাইফ সাপোর্টে’ থাকা যুদ্ধবিরতির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

সবশেষ যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে ইরানের দেওয়া শর্তও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।