পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬

৫ বছরে ৮ শতাংশ ভোট বাড়িয়েই ২০৭ আসন দখলে নিল বিজেপি

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ভোটের হারে সামান্য পরিবর্তন নির্বাচনী ফলাফলকে কতটা বদলে দিতে পারে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তার একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ২০৭ আসনে জয়ী হয়ে বিজেপির ইতিহাস গড়ার মূলে রয়েছে তাদের ভোট হার বৃদ্ধি।

২০২১ সালের তুলনায় মাত্র ৮ শতাংশ ভোটবৃদ্ধি আসন সংখ্যায় অনেক বড় সাফল্য এনে দিয়েছে দলটিকে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুনভাবে সাজিয়েছে।

একইসঙ্গে রাজ্যের বড় ও ছোট দলগুলোর মধ্যে শক্তির ভারসাম্যেও বড় পরিবর্তন এসেছে।

আজ মঙ্গলবার দ্য স্টেটসম্যান ও এশিয়ান নিউজ নেটওয়ার্কের (এএনএন) বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।

এতে বলা হয়, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩৮ শতাংশ। ওই নির্বাচনে ৭৭টি আসনে জয় পায় দলটি।

এবারের নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, বিজেপির ভোট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ শতাংশ। আর এই বাড়তি ভোট দলটিকে জয় এনে দিয়েছে ২০৭টি আসনে।

বিজেপির ভোটবৃদ্ধি মাত্র ৮ শতাংশ হলেও আগের নির্বাচনের চেয়ে আসন বেশি পেয়েছে ১২৯টি।

এই ফলাফলের মাধ্যমে বোঝা যায়, পশ্চিমবঙ্গের মতো বহু দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাজ্যে ভোটের হারে অল্প পরিবর্তনও কীভাবে নির্বাচনের ফল সম্পূর্ণ পাল্টে দিতে পারে।

ভোট যেভাবে বদলে গেল আসনে

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলের সঙ্গে তুলনা করলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই উত্থান আরও স্পষ্ট হয়।

ওই নির্বাচনে বিজেপি ভোট পেয়েছিল ৩৯ শতাংশ, এগিয়ে ছিল ৯০টি আসনে।

আর, ওই নির্বাচনের সঙ্গে এবারের তুলনা করলে ২ বছরের ব্যবধানে ভোটের হার ৭ শতাংশ বেড়ে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে।

২০২৪ সালের তুলনায় বিজেপির ঝুলিতে জমা পড়েছে আরও ১১৬টি আসন এবং রাজ্যটিতে নিজেদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হলো।

বাম-কংগ্রেসের প্রভাব

অন্যদিকে সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের সম্মিলিত ভোট এবারও বেশ কম।

আলাদাভাবে লড়াই করে বামফ্রন্ট পেয়েছে প্রায় ৫ শতাংশ ভোট এবং কংগ্রেস পেয়েছে প্রায় ৩ শতাংশ। তাদের সম্মিলিত ভোট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ শতাংশে।

রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে এই দুই শক্তির নিম্নমুখী ধারাই অব্যাহত রয়েছে।

২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে তারা জোটবদ্ধভাবে লড়াই করেছিল।

২০২১ সালে তাদের সম্মিলিত ভোট ছিল ৯ শতাংশের নিচে এবং ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ৮ শতাংশ।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই দলের কেউই কোনো আসন পায়নি।

ছোট দলগুলোর সাফল্য

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজেপির এই বিশাল জয়ের মধ্যেও কিছু ছোট রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এর মধ্যে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড় আসনটি ধরে রেখেছেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) নেতা নওশাদ সিদ্দিকী।

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জয়ী ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) নেতা নওশাদ সিদ্দিকী। ছবি দ্য হিন্দু

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক নেতা হুমায়ুন কবিরের নবগঠিত দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ চমকপ্রদ ফল দেখিয়েছে।

তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার নওদা ও রেজিনগর—উভয় আসন থেকেই জয়লাভ করেছেন, যা এই নির্বাচনে অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্বতন্ত্র সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।