যুক্তরাষ্ট্রের ‘লজ্জাজনক ব্যর্থতায়’ হরমুজ প্রণালিতে নতুন অধ্যায়ের শুরু: মোজতবা খামেনি
যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখার অপেক্ষায় আছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
এ অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে তিনি বলেছেন, 'এটি প্রমাণিত যে, পারস্য অঞ্চলের মাটিতে মার্কিন বিদেশিদের উপস্থিতি ও তাদের আস্তানাই এখানকার নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।'
আজ বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম ইরনাতে সর্বোচ্চ নেতার বিবৃতি প্রচার করা হয়।
বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, 'পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি নিয়ে গত কয়েক শতাব্দী ধরে অনেক শয়তানের লোভ তৈরি হয়েছে।'
ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি ১৬২২ সালে পর্তুগিজ সৈন্যদের বিতাড়িত করার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, 'ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর ইরানিরা এবার নিজেদের চোখে আমাদের বাহিনীর দৃঢ়তা, সতর্কতা ও সাহসী সংগ্রাম প্রত্যক্ষ করেছে।'
তিনি বলেন, 'পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হলো যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া একটি ভবিষ্যৎ, যা এ অঞ্চলের জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি এনে দেবে।'
মোজতবা খামেনি বলেন, 'আমেরিকার পুতুল ঘাঁটিগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শক্তি ও সক্ষমতা নেই। সুতরাং আমেরিকা এ অঞ্চলে তাদের অনুগতদের নিরাপত্তা দেবে—এমন আশা করা বৃথা।'
খামেনি আরও বলেন, 'ইরান পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রক্ষা করে যাবে, কঠোরভাবে পাহারা দেবে। ইরানিরা দেশের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে তাদের জাতীয় সম্পদ হিসেবে দেখে এবং এগুলোকে জল, স্থল ও আকাশসীমার মতো করেই পাহারা দেবে।'
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ‘ব্যর্থতার’ পর নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের “লজ্জাজনক ব্যর্থতার” মধ্য দিয়ে আজ এ অঞ্চলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হচ্ছে।'
জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে এ বার্তা প্রচার করা হয়। ১৬২২ সালে হরমুজ প্রণালি থেকে পর্তুগিজ বাহিনীকে বিতাড়িত করার স্মরণে এই দিবস পালন করে ইরান।