ট্রাম্পের ওপর যত হামলা
হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্ট ডিনারে গুলির ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রশ্ন।
গত কয়েক বছরে একাধিক হত্যাচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়া ট্রাম্পের নিরাপত্তা ইস্যু এখন নতুন করে আলোচনায়, বিশেষ করে সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনজুড়ে এসব হামলা ও হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই: সবচেয়ে কাছাকাছি হামলা
সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, বাটলারে এক নির্বাচনী সমাবেশে। সেসময় ট্রাম্প মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, আর কাছাকাছি একটি ভবনের ছাদে অবস্থান নিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয় ২০ বছর বয়সী থমাস ক্রুকস।
হামলায় এক পথচারী নিহত হন এবং ট্রাম্পের কানে আঘাত লাগে। দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলেই হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করেন।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর: গলফ কোর্সে পরিকল্পিত হামলা
এর কয়েক মাস পর, সেপ্টেম্বর মাসে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ গলফ কোর্স এলাকায় আরেকটি হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়।
প্রসিকিউটরদের মতে, রায়ান রুথ কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিকল্পনা করে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেন। তিনি ঝোপের আড়াল থেকে রাইফেল তাক করেছিলেন, যখন ট্রাম্প গলফ খেলছিলেন।
তবে একজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট তাকে আগেই শনাক্ত করেন। পরে তাকে কাছাকাছি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বছর আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ফেব্রুয়ারিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মার-এ-লাগোতে অনুপ্রবেশ
একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে, ২১ বছর বয়সী অস্টিন টাকার মার্টিন ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে একটি শটগান নিয়ে প্রবেশ করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে গুলি করে হত্যা করে। সেসময় ট্রাম্প সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো দেখায় যে, ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে নিরাপত্তা ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান। সাম্প্রতিক হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্ট ডিনারে গুলির ঘটনাও সেই উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে আরও কঠোর ও বহুস্তরীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।

