যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে যা জানা গেল
হরমুজ প্রণালিসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট নিরসনে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একটি ছোট প্রতিনিধি দল নিয়ে আজ শুক্রবার ইসলামাবাদ সফর করছেন।
অন্যদিকে সম্ভাব্য আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি লজিস্টিক ও নিরাপত্তা দল আগে থেকেই পাকিস্তানে অবস্থান করছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, আরাঘচির সফরসূচিতে ইসলামাবাদ ছাড়াও মাসকাট ও মস্কো রয়েছে।
তার এই সফরের উদ্দেশ্য হলো দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা, চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে মতবিনিময়।
আরাঘচি নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে এ সফরকে ‘সময়োপযোগী সফর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘এই সফরের লক্ষ্য আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে পরামর্শ করা। আমাদের প্রতিবেশীরাই আমাদের অগ্রাধিকার।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেনি তিনি।
পাকিস্তান সরকারের দুটি সূত্রের বরাতে ডন জানিয়েছে, এই সফর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত হতে পারে।
তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় এবং ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আজ শুক্রবার সময়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ইরানের সামনে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো চুক্তি করার সুযোগ রয়েছে।’
গত মঙ্গলবার নতুন করে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। হরমুজে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়াসহ বেশ কিছু শর্ত দিয়েছিল ইরান।
অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধিদলও ওয়াশিংটন ছাড়েনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি একতরফাভাবে বাড়িয়ে দেন, যাতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।
গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফায় সরাসরি আলোচনা হয়। যদিও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই আলোচনা।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ নিয়ে মতবিরোধের কারণে দ্বিতীয় দফার আলোচনা এখনো হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ—যিনি আগের দফার আলোচনায় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, এ দফায় তার নাম এখনো উল্লেখ করেনি ইরান।
এর আগে বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা হতে পারে।
পরদিনই হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন তিন সপ্তাহের জন্য পৃথক যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ইরান।
দুই পক্ষকে আবার আলোচনায় ফেরাতে গত কয়েক দিন ধরে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে পাকিস্তান।