কূটনীতির কথা বললেও স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরানের স্পিকার

স্টার অনলাইন ডেস্ক

কূটনীতির কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্র গোপনে স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

আজ রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ প্রকাশ্যে আলোচনা ও সংলাপের বার্তা দেয়, অথচ গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করে।’

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার এই মন্তব্যের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সেনা বহনকারী মার্কিন উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি পৌঁছেছে।

গালিবাফ আরও বলেন, ‘আমাদের যোদ্ধারা মার্কিন সেনাদের স্থল অভিযানের অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তাদের শাস্তি দেওয়া যায়।’

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, পেন্টাগন কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে। এতে খারগ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় হামলার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কোনো অনুমোদন দেননি।

ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে শত্রুপক্ষের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। বিশ্বের সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে হয়, ফলে এতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা বললেও তেহরান তা অস্বীকার করেছে জানায় এএফপি।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সোমবার ইসলামাবাদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করছে।

এদিকে রোববার ভোরে তেহরানে দুটি বিস্ফোরণে শহর কেঁপে ওঠে বলে এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবি জানিয়েছে, ইরানে অবস্থিত তাদের অফিসে একটি ভবনে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে ভবনের ভেতরে ভাঙা কাচ ও বাইরে ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে বন্দর শহর বান্দার খামিরের একটি জেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গালিবাফ দেশবাসীর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরান এখন ‘একটি বড় বৈশ্বিক সংঘাতের’ মুখোমুখি।

তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দেওয়া যাবে এবং আমাদের অধিকার রক্ষা করা হবে।’