মধ্যপ্রাচ্যে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা চুক্তি, ইরানকে উন্নত ড্রোন দিচ্ছে রাশিয়া
মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে ইতোমধ্যে ১০ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে ইউক্রেন। অন্যদিকে ইরানে উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন পাঠাচ্ছে রাশিয়া।
আজ শনিবার বার্তাসংস্থা এএফপি ও এপি’র প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য সফরে এসে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে ১০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ১০ বছরের সহযোগিতার কথা বলছি। ইতোমধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছি, কাতারের সঙ্গেও একই ধরনের ১০ বছরের চুক্তি সই করেছি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও এমন চুক্তি করতে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, চুক্তির আওতায় দুই পক্ষ যৌথভাবে উৎপাদনে যুক্ত থাকবে। উভয় দেশেই কারখানা গড়ে তোলা হবে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তাসংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন পাঠাচ্ছে রাশিয়া।
ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এপি জানায়, চলতি মাসে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ড্রোন হস্তান্তর নিয়ে ‘খুব সক্রিয়’ আলোচনা হয়েছে। ড্রোনের চালান ইতোমধ্যে পথেও থাকতে পারে।
গোয়েন্দাদের ধারণা, আজারবাইজানের মাধ্যমে ট্রাকে করে মানবিক সহায়তার নামে ইরানে উন্নত ড্রোন পাঠাচ্ছে রাশিয়া।
তবে এসব ড্রোন একবারের চালান নাকি ধারাবাহিক সরবরাহ—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়া। পরবর্তীতে ওই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করেছে মস্কো।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন উন্নত সংস্করণের মধ্যে রয়েছে—প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত করতে পারে এমন বিস্ফোরকবিহীন ড্রোন, জেট ইঞ্জিন সংযোজন, উন্নত অ্যান্টি-জ্যামিং প্রযুক্তি, ক্যামেরা ও রেডিও লিংক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্টারলিংক ইন্টারনেট ডিভাইস সংযোজন।
ইউক্রেনে পাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকেও ইরান-রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতার প্রমাণ মিলেছে বলে জানায় এপি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব উন্নত ড্রোন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার উন্নত ড্রোন ইরানে পৌঁছালে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য এগুলো প্রতিহত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে জেটচালিত ড্রোন দ্রুতগতির হওয়ায় সেগুলো ভূপাতিত করতে ব্যয়বহুল উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে, যার মজুদ সীমিত।