মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হচ্ছে নতুন মার্কিন রণতরী
মধ্যপ্রাচ্যে আরও মার্কিন সেনা ও নতুন রণতরী মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।
আজ শনিবার ওই দুই কর্মকর্তার বরাতে সিবিএস নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কর্মকর্তারা বলেন, এই অতিরিক্ত বাহিনী জলে এবং উভয় ফ্রন্টে কাজ করতে সক্ষম।
এক কর্মকর্তা আরও জানান, এই গ্রুপটির নেতৃত্ব দেবে অ্যামফিবিয়াস অ্যাসল্ট রণতরী ইউএসএস ত্রিপোলি।
অ্যামফিবিয়াস অ্যাসল্ট রণতরী হলো এক ধরনের শক্তিশালী রণতরী, যা সমুদ্র থেকে স্থলভাগে সৈন্য, যুদ্ধযান এবং হেলিকপ্টার নামানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএসএস ত্রিপোলির নেতৃত্বাধীন এই ইউনিটে সাধারণত প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও সেনা থাকে, যারা কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে ভাগ হয়ে অবস্থান করে।
এই পদক্ষেপের খবর এমন সময় এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির খারগ দ্বীপে ইরানের সামরিক অবকাঠামো ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে’ যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। এটি বৈশ্বিক তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ।
বিবিসি জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কখন মার্কিন নৌবাহিনী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা খুব শিগগিরই ঘটবে।’
মার্কিন সেনা চলাচলের খবর প্রথম প্রকাশ করা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এই অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোর অনুরোধ করেছিল ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড(সেন্টকম)। এটি অনুমোদন দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
বিবিসি এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে ভবিষ্যতে সেনা চলাচলের বিষয়টি সাধারণত প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয় না।
ওয়াশিংটন পোস্ট ও দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত কর্মকর্তারা জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থাপিত একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু অংশও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নিচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে ট্রাম্প বলেন, আগামী সপ্তাহে ইরানের ওপর ‘কঠোর’ আঘাত হানা হবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হবে তখনই, যখন ‘আমি আমার হাড়ের ভেতর তা অনুভব করব।’
পেন্টাগন জানিয়েছে, সংঘাতের প্রথম দুই সপ্তাহেই তারা ইরানের ৬ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে সংঘাত শুরু করে এবং এতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।