ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত আহত প্রায় ১৫০ মার্কিন সেনা
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে গত ১০ দিনে কমপক্ষে ১৫০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
এর আগে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল, মাত্র আটজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি শুরুর পর টানা ১০ দিনের হামলায় প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।’
তিনি জানান, আহতদের বেশিরভাগের আঘাত তুলনামূলকভাবে সামান্য এবং ইতোমধ্যে ১০৮ জন সেনা দায়িত্বে ফিরে গেছেন। গুরুতর আহত আট সেনা সর্বোচ্চ চিকিৎসা পাচ্ছেন।
তবে আহতদের আঘাত কী ধরণের—বিশেষ করে বিস্ফোরণের পর সাধারণত দেখা দেওয়া মস্তিষ্কে আঘাত (ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি) রয়েছে কিনা—তা নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে অবস্থিত কিছু কূটনৈতিক মিশন, হোটেল ও বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে তেল অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে পেন্টাগন বলছে, যুদ্ধ শুরুর তুলনায় ইরানের হামলার সংখ্যা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ফলে এ পরিবর্তন দেখা গেছে।
পেন্টাগনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন বলেন, ‘যুদ্ধের পরিকল্পনা করার সময় যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছিল, বাস্তবে লড়াই তার চেয়ে বেশি কঠিন হয়ে ওঠেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা লড়াই করছে এবং আমি সেটিকে সম্মান করি। তবে আমাদের ধারণার চেয়ে তারা বেশি শক্ত প্রতিপক্ষ নয়।’

হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাতলে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইন পেতে থাকে, তাহলে তার জন্য ‘গুরুতর সামরিক পরিণতি’ হবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এক প্রতিবেদনে বলছে, মঙ্গলবার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে ইরান কয়েক ডজন মাইন পেতে থাকতে পারে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এই প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, কোনো জাহাজ যদি এই পথে চলাচল করার চেষ্টা করে, তবে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন বসিয়ে থাকে—যদিও এ বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই—তাহলে সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোনো কারণে মাইন পাতা হয়ে থাকে এবং তা দ্রুত সরানো না হয়, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে এমন মাত্রার সামরিক প্রতিক্রিয়া হবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে মাইন পাততে পারে এমন যেকোনো নৌযান ধ্বংস করা হবে।
পরে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মাইন পাতায় ব্যবহৃত ১০টি নিষ্ক্রিয় জাহাজ ধ্বংস করেছে এবং আরও অভিযান চালানো হতে পারে।