ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

‘খুব শিগগিরই’ যুদ্ধের অবসান, তবে জ্বালানি আটকালে ইরানে ভয়াবহ হামলা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগির’ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি জ্বালানি সরবরাহ আটকে দেওয়ার বিষয়ে ইরানকে হুমকিও দিয়েছেন।

গতকাল সোমবার ফ্লোরিডার ডোরালে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পাঁচ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওই দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।

ট্রাম্প এমন এক সময়ে এই কথা বললেন, যখন ইরানের কট্টরপন্থীরা নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করছে। তিনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার ছেলে।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, বেসামরিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন তেল শোধনাগার ও পানি শোধনাগারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার মধ্যেই গত রোববার তার নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।

মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণার সিদ্ধান্তে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার পরিণতিও আলি খামেনির মতোই হবে কি না— সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর ট্রাম্প দেননি।

এর আগে দিনের শুরুর দিকে সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধ মোটামুটি শেষ হওয়ার পথে। এই ইঙ্গিত জ্বালানির বাজারের আতঙ্ক কিছুটা কমিয়ে দিয়েছিল। এর ফলে তেলের দাম কমে এবং শেয়ার বাজারের সূচক বাড়ে। কিন্তু দিনের শেষে বাজার বন্ধ হওয়ার পর ট্রাম্প তার অবস্থান পরিবর্তন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে যখন জানতে চাওয়া হয়, ইরানের সাথে যুদ্ধ এই সপ্তাহেই শেষ হবে কি না, ট্রাম্প উত্তরে সরাসরি বলেন, ‘না’। তিনি কেবল বলেন, যুদ্ধ শেষ হবে ‘শিগগির, খুব শিগগির।’

সংঘাত অবসানের ইঙ্গিত দিলেও ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে দেশটিতে আরও ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হবে। এই অবরোধের জেরে এরইমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানের নেতারা যদি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করেন, তবে আরও বেশি আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা তাদের ওপর এত কঠোরভাবে আঘাত হানবো যে তাদের পক্ষে বা তাদের সাহায্যকারী অন্য কারো পক্ষে বিশ্বের ওই অংশটিকে আর কখনও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না।

প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, আজ থেকে আমরা জানি তারা কোথায় ড্রোন তৈরি করে এবং একের পর এক সেগুলোতে আঘাত হানা হচ্ছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমে ১০ শতাংশ বা তার নিচে নেমে এসেছে।

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পরপরই এই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন ট্রাম্প। ট্রাম্প জানান, পুতিন মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিরসনে ‘সহায়তা করতে’ চেয়েছেন।

এর আগে ডোরালে ট্রাম্প তার গলফ ক্লাবে রিপাবলিকানদের এক সমাবেশে বলেন, ইরানে হামলা একটি ‘স্বল্পমেয়াদি অভিযান’। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ‘শত্রু সম্পূর্ণ এবং চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত’ এই আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।