পাকিস্তানের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আফগানিস্তানের তালেবানের যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে বলে শুক্রবার জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর একদিন আগেই প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে ‘সরাসরি যুদ্ধ’ শুরুর ঘোষণা দেয় পাকিস্তান।

অপরদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জানিয়েছে, পাকিস্তান বড় শহরগুলোতে তাদের বাহিনীর ওপর বোমা হামলা চালানোর পরও তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র ইমেইলে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠন তালেবানের হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।’

মার্কিন কূটনীতিক অ্যালিসন হুকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, তিনি শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচের সঙ্গে কথা বলেছেন।

পাকিস্তান একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ এবং সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক শক্তিশালী। তবে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় তালেবান গেরিলা যুদ্ধে দক্ষ হয়ে উঠেছে। ২০২১ সালে ওয়াশিংটনের সেনা প্রত্যাহারের পর তারা আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে।

পাকিস্তান ওয়াশিংটনের প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র। যুক্তরাষ্ট্র আফগান তালেবানকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।

সর্বশেষ সহিংসতা শুরু হয় আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর। এর জবাবে বৃহস্পতিবার সীমান্তজুড়ে পাল্টা হামলা চালায় আফগান তালেবান। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, নিজেদের নিরাপত্তা ব্যর্থতা ঢাকতেই পাকিস্তান তাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তান ও আফগান তালেবানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সংঘর্ষ শুরুর বিষয়ে ওয়াশিংটন অবগত রয়েছে এবং প্রাণহানিতে তারা ‘দুঃখ প্রকাশ’ করছে।

উভয় পক্ষই সংঘর্ষে ব্যাপক হতাহতের দাবি করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এই পরিস্থিতিকে ‘সরাসরি যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, ‘সন্ত্রাসবিরোধী অঙ্গীকার রক্ষায় তালেবান বার বার ব্যর্থ হয়েছে এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ভয়াবহ হামলার জন্য আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে।’