‘সরাসরি যুদ্ধ’ বলছে পাকিস্তান, সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চায় আফগানিস্তান

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে তালেবান সরকারের বাহিনীর ওপর বৃহস্পতিবার রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এটি তাদের সাবেক মিত্র দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রথম হামলা।

এ পরিস্থিতিকে ‘সরাসরি যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ।

আজ শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ আরও বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আমাদের এবং আপনাদের (আফগানিস্তান) মধ্যে এটি সরাসরি যুদ্ধ।’

পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও তালেবান নেতৃত্বের ঘাঁটি কান্দাহার শহর লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে তালেবানের সামরিক কার্যালয় ও চৌকিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। একইসঙ্গে দুই দেশের সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায়ও সংঘর্ষ হয়েছে।

অন্যদিকে, পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আফগানিস্তান।

সংঘর্ষে পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। 

এ বিষয়ে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছি এবং এখনো চাই এ সমস্যার সমাধান সংলাপের মাধ্যমেই হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করছে—পাকিস্তানের এমন দাবি পূর্বপরিকল্পিত অজুহাত।

টিটিপিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে পাকিস্তান হামলা চালিয়ে যেতে থাকলে তার কঠোর জবাব দেওয়ার সামর্থ্য আছে বলেও হুশিয়ার করেন আফগান সরকারের মুখপাত্র।

সংবাদ সম্মেলনে হতাহত ও অভিযানের তথ্যও তুলে ধরেন তিনি। 

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতের হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও শুক্রবারের হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে। 

তবে তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি।  

জানান, পাল্টা অভিযান প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। ১৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন। 

এদিকে ভবিষ্যতে পাকিস্তান হামলা চালালে এর শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে বলে হুশিয়ার করেছেন আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফাসিহউদ্দিন ফিতরাত।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, রাশিয়া, চীন, তুরস্ক ও সৌদি আরব পরিস্থিতি প্রশমনে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তান—উভয় দেশের প্রতিবেশী ইরানও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।