বাতাস থেকে সংগ্রহ করা যাবে পানি, নোবেলজয়ী ইয়াগির উদ্ভাবন
রসায়নে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ওমর ইয়াগি শুষ্ক বাতাস থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহের একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন।
ঘূর্ণিঝড় বা খরায় কেন্দ্রীয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে এটি বিকল্প সমাধান দিতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রেটিকুলার কেমিস্ট্রি’ নামে এক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এই যন্ত্র। এটি বাতাসের আর্দ্রতা শোষণ করে পানি তৈরি করতে সক্ষম—এমনকি মরুভূমির পরিবেশেও।
ইয়াগি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি অ্যাটোকো জানিয়েছে, ২০ ফুট শিপিং কনটেইনারের সমান আকারের একটি ইউনিট প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন করতে পারে। এটি কম মাত্রার তাপশক্তিতে চলে এবং বিদ্যুৎবিহীন অবস্থাতেও কাজ করতে পারে।
গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ২০২৫ সালে নোবেলজয়ী ইয়াগির মতে, খরাপ্রবণ ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য এটি বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে গ্রেনাডার ক্যারিয়াকু ও পেতিত মার্তিনিক—যা ২০২৪ সালের ঘূর্ণিঝড় বেরিলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে এই প্রযুক্তি জীবনরক্ষাকারী হতে পারে।
ক্যারিবীয় কর্মকর্তা ডেভন বেকার গার্ডিয়ানকে বলেন, পানি আমদানির উচ্চ ব্যয়, কার্বন নিঃসরণ ও ঘূর্ণিঝড়ে অবকাঠামো ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে এই পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। এটি সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ পদ্ধতির তুলনায় বেশি পরিবেশবান্ধব। কারণ এতে লবণাক্ত বর্জ্য সমুদ্রে ফেলতে হয় না।
সম্প্রতি জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ নিরাপদ খাবার পানির অভাবে রয়েছে।
জর্ডানে শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা ইয়াগি বলেন, শৈশবে পানি সংকটের অভিজ্ঞতাই তাকে এই গবেষণায় অনুপ্রাণিত করেছে।
তার ভাষ্য, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বিজ্ঞানের সমাধান প্রস্তুত—এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ।