ইরানের ‘পরিশোধিত’ ইউরেনিয়াম সরাতে হবে: নেতানিয়াহু
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিতীয় দফার পরমাণু আলোচনা। ইতোমধ্যে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক হামলা’ এড়াতে চুক্তির শর্তে ছাড় দিতে তারা রাজি।
গতকাল রোববার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
কিন্তু এই ইতিবাচক পরিস্থিতিকে কিছুটা হলেও ঘোলা করে দিয়ে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে একটি বিশেষ দাবি জানিয়ে বসেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
আলোচনা হচ্ছে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। কাগজেকলমে এতে তেল আবিবের সরাসরি কোনো সংযোগ নেই। তবুও, আলোচনাকে প্রভাবিত করতে বিশেষ ‘অস্ত্র’ নিয়ে হাজির হয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধী আদালতে অভিযুক্ত আসামী নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহু মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে চুক্তিই হোক না কেন, তেহরানের সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত ইউরেনিয়ামের মজুদ সে দেশ থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে
ইসরায়েলের দাবি মানতে হলে দীর্ঘদিন ধরে সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া ইউরেনিয়ামের উল্লেখযোগ্য মজুদটি আর ইরানের হাতের নাগালে থাকবে না।
এমন সময় নেতানিয়াহু এই মন্তব্য করলেন যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সুইজারল্যান্ডের আলোচনায় যোগ দিতে জেনেভার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
এ সপ্তাহের শেষ ভাগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নেবেন ইরানের এই নেতা।
জেরুসালেমে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, চুক্তিতে বেশ কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।
‘প্রথমত, সব ধরনের পরিশোধিত উপকরণ (ইউরেনিয়াম) ইরান থেকে বের করে নিয়ে আসতে হবে’, বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, (ইরানের ইউরেনিয়াম) সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতাও থাকতে পারবে না। এ কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও অবকাঠামো ধ্বংস করতে হবে, যাইতে চাইলেও তারা আর এটা করতে না পারে।’
তৃতীয় বিষয় হিসেবে তিনি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করেন।
গত বছরের জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৪০০ কেজিরও বেশি ৬০ শতাংশ পরিশোধিত ইউরেনিয়ামের মজুত আছে। এখন এই দুর্লভ সম্পদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জুনের ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব উভয়ই ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায়।
তবে এতে ইউরেনিয়ামের মজুতের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কী না, তা জানা যায়নি।
মার্কিন-ইহুদি সংস্থার সভাপতিদের এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় নেতানিয়াহু বলেন, তিনি এ মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার সময় এসব শর্ত তুলে ধরেন।
রোববার নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, তেহরানের পরমাণু প্রকল্পের ওপর সব সময়ই নজর রাখতে হবে।
জুনে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে দুই দেশের ১২ দিনের যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায় ইসরায়েল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরমাণু আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে ওই হামলার ফলে সেই আলোচনা ভেস্তে যায়।
পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি চালুর আরও বেশ কিছুদিন পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে নতুন করে দুই পক্ষের আলোচনা শুরু হয়।
ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামের রণতরী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের দাবি, ‘ভয় না দেখালে’ ইরান পরমাণু আলোচনার শর্তগুলো মেনে চুক্তিতে সই দেবে না।
প্রথমটির পর দ্বিতীয় রণতরী, ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডও ইরানের কাছাকাছি সাগরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
জানা গেছে, ট্রাম্পের এক শব্দের নির্দেশে অন্তত সাত দিন ধরে ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে মার্কিন সেনারা প্রস্তুত আছেন।
এই পরিস্থিতিতে জেনেভার আলোচনার সাফল্যের জন্য শান্তিকামী বিশ্বনাগরিকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ুক, এটা কখনোই কাম্য নয়।

