হাসপাতাল দালালমুক্ত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হঠাৎ পরিদর্শনে গেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ বুধবার সকালে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও অস্ত্রোপচার কক্ষ ঘুরে দেখেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রোগী বা ট্রলি বিক্রি আমরা শতভাগ বন্ধ করে দেবো। দালালের ব্যাপারে আমরা ওয়াকিবহাল।’

কেবল ঢামেক হাসপাতাল নয়, দেশের সব সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে দালালের দৌরাত্ম্য নির্মূল করা হবে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগে যে রকম এলেই দেখতাম শত শত তেলাপোকা দৌড়াদৌড়ি করছে, আজ সেই দৃশ্য পাইনি। তেলাপোকা দেখেছি, কিন্তু সংখ্যায় কম। আরও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সব রোগীরা ওষুধ পাচ্ছে না, এটা একটি অভিযোগ। অনেক সময় সরবরাহে সমস্যা হয়ে যায়, সেটাও আমরা আলাপ করেছি।’

‘একটি ওটি (অপারেশন থিয়েটার) খুবই চমৎকার। এটা একজন ব্যক্তি অনুদান দিয়েছেন। তবে আমাদের ওটিগুলোর অবস্থা তেমন উন্নত মানের না। ওটিগুলো নতুন করে সংস্কার করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

পরিচ্ছন্নতা ও রোগী ধারণক্ষমতা বাড়াতে সরকার উদ্যোগ নেবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন এখানে (ঢামেক হাসপাতাল) অতিরিক্ত দেড় হাজার রোগী থাকে। অনেক সময় একই বেডে দুইজন-তিনজন রোগী রাখতে হয়। আমাদের সেবা দেওয়ার সক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। রোগী অনুপাতে চিকিৎসকের সংখ্যা কম, অ্যানেস্থেসিস কম, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও স্টাফ কম। সেবা দিতে পারে না।’

অপারেশন থিয়েটারগুলো উন্নত মানের করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

‘আমি হতাশ না (আই অ্যাম নট ফ্রাসট্রেটেড) যে, একেবারে মেডিকেল শেষ—এটা যদি আমি বলি, এটা মিথ্যা কথা বলা হবে। আমাদের অপ্রতুলতা আছে, জনবল কম, রোগী ধারণ ক্ষমতা কম, লন্ড্রি ওয়াশিংয়ের নিজস্ব কোনো প্ল্যান্ট নেই। যাকে দেওয়া হয়েছে, নিম্নমানের ওয়াশ। কাঁচা কাঁচা ময়লা রয়ে গেছে, কিন্তু আয়রন করে দিয়ে দিয়েছে। আমি কাকে দোষ দেবো? আমাদের তো নিজস্ব প্ল্যান্ট নেই! আমি পরিচালককে বলেছি, ঠিকাদারের বিল কাটতে,’ বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘এসব অবস্থার উন্নতি করতে হলে আমাদেরকে কিছু শৃঙ্খলা মানতে হবে। এই যে রোগীদের অ্যাটেনডেন্স সারা দিন আসতে থাকে, ২৪ ঘণ্টা, কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রত্যেকটা লোকের পায়ে পায়ে ময়লা আসে, অনেকে থুতু ফেলে, বিভিন্নভাবে নোংরা হয়। দর্শনার্থীদের জন্য সময় বেঁধে দিতে বলেছি।’