বেশি বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলে ফসলের ক্ষতি ৮৩ কোটি টাকা, ডিজেল সাশ্রয় ২ লাখ টন

মোস্তফা সবুজ
মোস্তফা সবুজ

এ বছরের মার্চে স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে দেশে ৩১ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে শুধু উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ৮৩ কোটি ৩৯ হাজার টাকার ফসল হানি হয়েছে।

তবে বেশি বৃষ্টির কারণে দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে সেচকাজে ডিজেল সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দেশে মার্চের স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাত ৪৭ মিলিমিটার। কিন্তু এ বছর মার্চে সারা দেশে গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬২ মিলিমিটার।

আজ বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, এ বছর মার্চে অন্যান্য বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬৮ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

সিলেটে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৪০ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫৪ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। রংপুরে মার্চে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১২৩ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩২৮ শতাংশ বেশি। ময়মনসিংহে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১১৬ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২১৭ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে এ বছর মার্চের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা।

তবে, মার্চে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে শূন্য দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন এই আবহাওয়াবিদ।

ফসল হানি

১২ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৬১৪ কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ঝড়ে নষ্ট হয়েছে প্রায় ২ হাজার ১৩১ হেক্টর জমির ফসল, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৮৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৬ জেলার আলুচাষিরা।

অধিদপ্তর আরও জানায়, উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিতে আলু নষ্ট হয়েছে ৯১৬ হেক্টর জমির, কলা নষ্ট হয়েছে ২২৯ হেক্টরের, শাকসবজি নষ্ট হয়েছে ৭৮ হেক্টর জমির, ভুট্টা নষ্ট হয়েছে ৬২৮ হেক্টরের, গম নষ্ট ১০২ হেক্টরের, সূর্যমুখী নষ্ট ১০ হেক্টর জমির, পেঁয়াজ বীজ নষ্ট হয়েছে ৭ হেক্টরের, মরিচ নষ্ট হয়েছে ৯ হেক্টর জমির।

তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি জ্বালানি সংকটের এ মুহূর্তে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে চাষিদের জন্য।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, মার্চের অতিরিক্ত বৃষ্টিতে প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল সাশ্রয় হয়েছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রওশন আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মার্চ-এপ্রিলে জমিতে সেচ দিতে প্রায় ২০ শতাংশ বা ১২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল লাগে।'

বৃষ্টির কারণে কত জ্বালানি তেল সাশ্রয় হয়েছে জানতে চাইলে রওশন আলম বলেন, 'আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি বৃষ্টির কারণে এ সময়ে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সাশ্রয় হয়েছে।'

এছাড়া যেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সেচ দেওয়া হয়, সেখানেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়েছে বলে তিনি জানান।