আফটারশকের প্রবণতা এই অঞ্চলে কম: ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্র
বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্পের পরে সাধারণত আবার কম্পনের (আফটারশক বা পরাঘাত) আশঙ্কা থাকলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে আফটার শকের প্রবণতা কম।
তারা আরও বলছেন, বড় কোনো ভূমিকম্প হলে এর পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। কখনো কখনো ১০০ থেকে ২০০ বছর পর আবার ওই অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প হয়। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশ বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের আশেপাশে বড় মাত্রা ভূমিকম্প হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প হয়নি।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
ঢাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার পূর্ব দিকে নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় এর উৎপত্তি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ঢাকা থেকে খুব কাছে ও কয়েক দশকের মধ্যে মাত্রা বেশি হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ কম্পন অনুভব করেছেন এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে।
যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ মো. রুবাঈয়্যাৎ কবীর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'একটা বড় ভূমিকম্প হলে সাধারণত আফটারশক হয়। অর্থাৎ এখানে পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে, এর চেয়ে কিছুটা কম মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হবে। তবে অতীত ইতিহাস থেকে দেখা যায়, এই অঞ্চলে আফটারশক আমরা তুলনামূলকভাবে কম পেয়েছি।'
এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তর আফটারশক রেকর্ড করেনি বলেও জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অবস্থান ইন্ডিয়ান প্লেটে এবং এই প্লেট উত্তরপূর্ব দিকে এগোচ্ছে। আমাদের ঠিক উপরে (সিলেটের উত্তরে) আছে ইউরেশিয়ান প্লেট, যেটি দক্ষিণমুখী। এই দুই প্লেট একটি অন্যটিকে চাপ দিচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের পূর্ব দিকে মিয়ানমার সাবপ্লেটেও সাবডাক্ট হয়েছে, উত্তরে ডাউকি ফল্ট আছে এবং পূর্বে মিয়ানমারের সেগাইং ফল্ট, মধুপুর ফল্ট থাকায় ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে।