তিস্তায় বিলীন ৩০০ মিটার সড়ক, দুর্ভোগে নদীপাড়ের মানুষ
তিস্তা নদীর ভাঙনে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের ডান তীরে একটি কাঁচা সড়কের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে চরের কয়েকটি এলাকার দুই হাজারের বেশি পরিবারের মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা সড়ক ভাঙনের কবলে পড়ার পর থেকে তারা যাতায়াতের চরম কষ্টে পড়েছেন। সড়কটির একটি অংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় ইজিবাইক, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তাদের এখন পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে। তাদের কাঁধে ও মাথায় করে কৃষিপণ্য বহন করতে হচ্ছে।
তিস্তার ডান তীরে চর হরিণচড়া, পশ্চিম হরিণচড়া, মাঝের চর ও আদর্শপাড়া এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ব্যবহার করে আসছেন। এসব এলাকার মানুষ কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর এই সড়ক দিয়ে স্থানীয় বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক মাসে তিস্তা নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনে সড়কটির প্রায় ৩০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে ভাঙন কিছুটা কম থাকলেও নদীতে পানি বাড়লে নতুন করে ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সড়কটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে অতিরিক্ত শ্রমের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পশ্চিম হরিণচড়া এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন (৭০) বলেন, ‘আগে এই সড়ক দিয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে সহজেই গন্তব্যে যেতে পারতাম। এখন সড়কের একটি অংশ নদীতে চলে যাওয়ায় ইজিবাইক চলাচল করতে পারে না। বাধ্য হয়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে।’
আদর্শপাড়া এলাকার কৃষক সিরাজুল ইসলাম (৫৫) বলেন, ‘জুন মাসেও তিস্তা নদী সড়ক থেকে বেশ দূরে ছিল। তখন ভাঙনের কোনো আশঙ্কা ছিল না। কিন্তু জুলাই মাসে নদীর প্রবল স্রোত সড়কের দিকে আঘাত করতে শুরু করে। এক মাসের মধ্যে প্রায় ৩০০ মিটার সড়ক নদীতে চলে গেছে। এখন ভাঙন কিছুটা বন্ধ রয়েছে। তবে পানি বাড়লে আবার ভাঙন শুরু হতে পারে।’
একই এলাকার কৃষক আব্দুল হামিদ (৬৫) বলেন, ‘আগে ভ্যানে করে কৃষিপণ্য বাড়িতে আনা-নেওয়া করা যেত। এখন সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ভ্যান চলাচল করতে পারছে না। ফলে কাঁধে ও মাথায় করে কৃষিপণ্য বহন করতে হচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাত করতে গিয়ে আমাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, ‘চরের বাসিন্দাদের চলাচলের একমাত্র সড়কটি নদীভাঙন থেকে রক্ষার জন্য বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পানির প্রবল স্রোতের কারণে সড়কের একটি অংশ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, পানি কমে গেলে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সড়কটি যাতে ভবিষ্যতে নদীভাঙনের কবলে না পড়ে, সে জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।