আবারও খোয়াইয়ের বাঁধে ভাঙন, প্লাবিত ২২ গ্রাম

মিন্টু দেশোয়ারা
মিন্টু দেশোয়ারা

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধে দেড় মাসের ব্যবধানে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে।

গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় দেড় মাস ধরে মেরামতাধীন বাঁধের একই অংশে নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়। পরে দুপুরের দিকে বাঁধ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।

আজ সোমবারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বাঁধ ভেঙে অন্তত ২২টি গ্রামের প্রায় ৪ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পানির প্রবল স্রোতে মেরামতাধীন বাঁধের অংশটি ভেঙে যায়। এতে কালীগঞ্জসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে পড়ে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, উজান থেকে পানি আসায় বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে আজ।

তিনি বলেন, শনিবার থেকে উজানের পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। পানির উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট হওয়ায় মেরামতাধীন বাঁধটি পানির চাপ সহ্য করতে পারেনি।

রোববার দুপুরের দিকে বাঁধটি আবার ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। আগের ভাঙনের পর থেকেই নাসিরপুর এলাকায় বাঁধ মেরামতের কাজ চলছিল বলে জানান তিনি।

গত ৯ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই এলাকার খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। স্থানীয়রা জানান, সেসময় ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও মাছের খামারের ক্ষয়ক্ষতি হয়।

পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করে। তবে দেড় মাসেও কাজ শেষ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, কাজের ধীরগতি ও অনিয়মের কারণে একই স্থানে আবারও বাঁধ ভেঙেছে।

বাঁধ ভেঙে নতুন করে পানি ঢুকেছে দক্ষিণ চরহামুয়া, উত্তর চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, সুগার, আদ্যাপাশা, নোয়াবাদ, হাতিরথান, কাটিয়াদি, বৈদ্যের বাজার, বাঙ্গাঁও ও দক্ষিণ বাঙ্গাঁওসহ আশপাশের এলাকায়।

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুর রহমান বলেন, দেড় মাস আগে একই জায়গায় বাঁধ ভেঙে আমরা পানিবন্দি হয়েছিলাম। সেই কষ্ট কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার একই জায়গা ভেঙেছে। বাঁধ মেরামতের কাজে ধীরগতি ও অনিয়মের কারণেই এমন হয়েছে।

আরেক বাসিন্দা সাদেক ইসলাম বলেন, আগেরবার বাঁধ ভাঙার পর ফসল, ঘরবাড়ি ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ বাঁধটি ভালোভাবে মেরামত করবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পার হলেও কাজ শেষ হয়নি।

তিনি বলেন, নদীর পানি আবার বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নূর উদ্দিন বলেন, বর্ষার আগে বাঁধের কাজ শেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে আমরা বারবার কর্তৃপক্ষকে বলেছি। আমাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়নি। এখন একই জায়গা আবার ভেঙে হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকিতে পড়েছে।

খোয়াই নদীর ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন, পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার পরও পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধের মেরামতকাজ যথাযথভাবে শেষ করতে পারেনি। আগেরবার বাঁধ ভেঙে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং ফসল ও খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

তিনি বলেন, কাজটি আরও সতর্কতার সঙ্গে করা হলে এত মানুষকে আবার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হতো না।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবু জাহের বলেন, নতুন করে ২২টি গ্রামের প্রায় ৪ হাজার ৫০০ পরিবার বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আক্রান্ত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এদিকে উজান থেকে পানি আসা অব্যাহত থাকায় খোয়াই নদীর পানি আরও বাড়লে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।