বিপৎসীমার উপরে সাঙ্গু, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বান্দরবানে ২৯ ইউনিয়ন প্লাবিত
টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জেলার সার্বিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে বিভিন্ন এলাকায় পানি বাড়তে শুরু করলে জেলার ৩৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ২৯টি ইউনিয়ন কমবেশি প্লাবিত হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বুলবুল আক্তার সেতু দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর, লামা ও আলীকদম উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ৫৪টিতে চার হাজার ৬০০ জনের বেশি আশ্রয় নিয়েছেন।’
পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালুর প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বন্যার পানি বাড়ছে। জেলা সদরের আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরেবাংলা নগর, বনরূপাপাড়া, কালাঘাটা, মেম্বারপাড়া, পুলিশ সুপারের বাসভবন এলাকা, কসাইপাড়া, গোদারপাড়া, ক্যামলংপাড়া, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, পাবলিক লাইব্রেরি এলাকা, ভাঙামুড়া, বাকিছড়ামুখ, গুংগুরু খিয়াংপাড়া এবং গোয়ালিয়াখোলা ইউনিয়নের রত্নপুরপাড়া, রোয়াজাপাড়া ও দুংখিপাড়াসহ জেলার থানচি, রুমা, রোয়াংছড়ি, লামা ও আলীকদম উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ শতাধিক পাড়ার কয়েক হাজার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন লাখো মানুষ।
বন্যার কারণে জেলা শহরের সঙ্গে উপজেলা এবং বান্দরবানের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকা ছাড়া কোথাও চলাচলের উপায় নেই।
অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগও সম্ভব হচ্ছে না। এতে মানুষের মাঝে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর পানি ১৬ দশমিক ৮১ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ১২ দশমিক ১৩ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’
এদিকে বান্দরবান আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।