সাক্ষাৎকার

‘ঈদের সালামি আম্মা দিতেন ১০ টাকা আর আব্বা দিতেন ২০ টাকা’

শাহ আলম সাজু

এদেশের বিখ্যাত অভিনয়শিল্পী ডলি জহুর। শতাধিক চলচ্চিত্রে এবং অসংখ্য নাটকে দুর্দান্ত অভিনয় করে দর্শকদের মন কেড়েছেন। 

বিটিভির সাড়া জাগানো অনেক নাটকে তিনি অনবদ্য অভিনয় করেছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘরে তুলেছেন। জাতীয় চলচ্চিত্রে আজীবন সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি। তার অর্জনের মধ্যে আছে একুশে পদকও। 

এখনো অভিনয় জগতের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন এই গুণী শিল্পী।

ছোটবেলার ঈদ নিয়ে ডলি জহুর কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।

ডলি জহুর বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলার ঈদ মানেই প্রচণ্ড আনন্দ। সেই আনন্দ কোথায় হারিয়ে গেল?

বড়বেলায় কী সেই আনন্দ আছে? মাঝে মাঝে ভাবি, ঈদের আনন্দ বুঝি ছোটবেলায় বেশি পাওয়া যায়।

প্রতিটি মানুষের জীবনে ছোটবেলা আসে, আর তখনই যতরকম ঈদের আনন্দ কাজ করে। এই জীবনে ওইরকম আনন্দ আর পাব না। সত্যি বলতে, কখনোই ওইরকম আনন্দ ফিরে পাব না। ফিরে পাওয়া সম্ভব না।’

সালামি পাওয়ার দিনগুলোর কথা এখনো চোখে ভাসে ডলি জহুরের। 

ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসে, ততই সালামির কথা যেন খুব করে মনে পড়ে। ডলি জহুর বলেন, ‘ঈদের সালামি আম্মা দিতেন দশ টাকা আর আব্বা দিতেন বিশ টাকা। ওই টাকা তখন অনেক কিছু। সালামি পাওয়ার পর অনেক ভালো লাগত। অনেক খুশি হতাম। বান্ধবীদের সঙ্গে শেয়ার করতাম। কে কত সালামি পেল, সেটাও আলোচনা করতাম।’

ঈদের সালামির টাকা দিয়ে ডলি জহুর আইসক্রিম কিনে খেতেন। 

তিনি বলেন, ‘ঈদে মা-বাবার কাছ থেকে সালামি পেতাম। সালামির টাকা দিয়ে বান্ধবীরা মিলে নিচে গিয়ে পরিচিত দোকান থেকে আইসক্রিম কিনে খেতাম। মোড়ে মোড়ে আচার পাওয়া যেত। আচার কিনে খেতাম। সব স্বাদ যেন ওই আইসক্রিম আর আচারে ছিল। আহারে, শৈশব-কৈশোরের দিন কোথায় হারিয়ে গেল!’

ছোটবেলায় ঈদের সময় বান্ধবীরা মিলে রিকশা করে ঘুরতে বের হতেন। কখনো কখনো হারিয়েও যেতেন। সেইসব দিনের কথা মনে করে ডলি জহুর বলেন, ‘ঈদের দিন বান্ধবীরা মিলে ঘুরতাম। সবাই মিলে রিকশা নিয়ে এখানে-সেখানে যেতাম। হারিয়েও যেতাম মাঝে মাঝে। বান্ধবীদের বলতাম, “চিনিস না তো এদিকটায় নিয়ে এসেছিস কেন?” এরপর রিকশাওয়ালাকে বলতাম, “যেখান থেকে নিয়ে এসেছেন, সেখানে রেখে আসেন।“ এভাবেই ফিরে আসতাম বাসায়।’

ছোটবেলা ধানমন্ডিতে কেটেছে ডলি জহুরের। সেইসব স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ‘তখন আমাদের বাসা ছিল ধানমন্ডিতে। ঈদের ছুটিতে কতই না মজা হতো। বান্ধবীরা মিলে এ বাড়ি ও বাড়ি যেতাম। মা মাংস দিয়ে পাঠাতেন। পরিচিতদের বাসায় বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসতাম। ভীষণ আদর করতেন সবাই এবং নানা কিছু খেতে দিতেন। মধুর সময় ছিল তখন।’

ঈদের সময়ে অন্য সবার মতো ডলি জহুরও নতুন পোশাক পেতেন। 

ডলি জহুর বলেন, ‘ছোটবেলায় ঈদের সময় নতুন পোশাক পেতাম। এটা নিয়েও অনেক মজা করতাম। এমনভাবে বালিশের নিচে লুকিয়ে রাখতাম, কেউ যেন না দেখে। তারপর আশপাশের বাসায় যেতাম বান্ধবীদের পোশাক দেখার জন্য। কেউ দেখাত, আবার কেউ লুকিয়ে রাখত। সে এক অন্যরকম আনন্দের দিন ছিল। ওই দিনগুলো যদি ফিরে পেতাম! কিন্তু, সম্ভব তো নয়।’