দ্য ডেইলি স্টারের ৩৫ বছর পূর্তিতে তারকাদের মিলনমেলা, আড্ডা ও স্মৃতিচারণ

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

দ্য ডেইলি স্টারের ৩৫ বছর উদযাপনে তারকাদের মিলনমেলা বসেছিল। বিকেল থেকেই একে একে শোবিজ তারকারা আসতে শুরু করেন। এরপর ঘুরে ঘুরে পুড়ে যাওয়া অংশ দেখেন। পুড়ে যাওয়া অংশে প্রদর্শনী চলছিল, সেখানে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কেউ কেউ। মন্তব্য করতে গিয়ে গিয়ে কারো করো চোখ ভিজে যায়।

বর্ষীয়ান তারকা জুটি ওয়াহিদা মল্লিক জলি এবং রহমত আলী।
বর্ষীয়ান তারকা জুটি ওয়াহিদা মল্লিক জলি এবং রহমত আলী। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার

বিকেল চারটা বাজার দশ মিনিট আগে হাজির হন বর্ষীয়ান তারকা জুটি ওয়াহিদা মল্লিক জলি এবং রহমত আলী। দুজনেই একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক ছিলেন। জীবনভর অভিনয়ের সঙ্গে ছিলেন এই জুটি।
রহমত আলী বলেন, ‘বলেছিলাম চারটার আগে আসব, তাই করেছি।’

তার পাশ থেকে ওয়াহিদা মল্লিক জলি বলেন, ‘তোমাদের স্যার সারাজীবন শিক্ষকতা, থিয়েটার করা মানুষ, সময় মেনে চলেন।’

ডেইলি স্টারের পুড়ে যাওয়া অংশ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন ওয়াহিদা মল্লিক জলি ও রহমত আলী। মন খারাপ করে তারা বলেন, ‘ভারি অন্যায় কাজ হয়েছে। গণমাধ্যমের ওপর এভাবে আক্রমণ হতে পারে না।’ এরপর দুজনে দীর্ঘ সময় আড্ডা দেন।

মামুনুর রশীদ। ছবি: স্টার
মামুনুর রশীদ। ছবি: স্টার

চিরসবুজ নায়ক ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন মুঠোফোনে জানান, তিনি চারটায় ঢুকবেন, আবার দ্রুত চলে যাবেন। ঢাকা থিয়েটারে তার আরেক প্রোগ্রাম ছিল। তবে জ্যামের কারণে একটু দেরিতে আসেন তিনি। একই সময়ে পৌঁছে যান গুণী অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক মামুনুর রশীদ।

আফজাল হোসেন ও মামুনুর রশীদ প্রদর্শনী দেখে দুঃখ প্রকাশ করেন। ভারাক্রান্ত মনে আফজাল হোসেন বলেন, ‘ডেইলি স্টারের ৩৫ বছরে শুভকামনা জানাই। এই ধরনের আক্রমণ দুঃখজনক।’

আফজাল হোসেন
আফজাল হোসেন। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার

মামুনুর রশীদ বলেন, ‘গণমাধ্যমের ওপর হামলা হলে আর থাকে কী? এ ধরনের ঘটনা কখনোই চাই না। ৩৫ বছর নয়, শতবছর টিকে থাকুক ডেইলি স্টার।’

বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেনের পুত্র অভিনেতা ও পরিচালক সোহেল আরমান, মনপুরাখ্যাত পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম, পরিচালক অনিমেষ আইচ, নাট্যকার মাসুম রেজা কাছাকাছি সময়ে হাজির হন। এরপর তারা গল্প ও আড্ডায় মেতে ওঠেন। অভিনেত্রী স্বাগতা কিছু সময় পর আসেন। আড্ডায় তারা বলেন, ‘কতদিন পর দেখা হলো!’

পরিবারসহ তারিক আনাম খান। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার
পরিবারসহ তারিক আনাম খান। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার

আজমেরী হক বাঁধন এসেই সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি বলেন, ‘শুনতেই ভালো লাগছে পত্রিকাটি ৩৫ বছর পূর্ণ করলো। আরও বহু বছর পথ চলুক।’

হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এমন আক্রমণ মানা যায় না, দুঃখজনক।’

সাবেক লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার জাকিয়া বারি মম সাড়ে চারটায় পৌঁছান। তাকে পেয়ে কেউ কেউ বলেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস!’ কারণ মম ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। বাঁধনকেও কেউ কেউ একই কথা বলেন।

তারকাদের আড্ডা। ছবি:স্টার
তারকাদে আড্ডা। ছবি: স্টার

মম কিছু সময় প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। তিনি বলেন, ‘অনেক খারাপ লাগছে দেখে। বেদনাদায়ক ও দুঃখজনকতো বটেই। তবে ৩৫ বছর উদযাপন আনন্দের সংবাদ। একটি ইংরেজি পত্রিকা ৩৫ বছর সুনামের সঙ্গে টিকে থাকাটা বড় বিষয়।’

মামুনুর রশীদ ও আফজাল হোসেনের সঙ্গে দেখা হয় মমর। মম তাদের খোঁজখবর নেন। আফজাল হোসেন বলেন, ‘তোমাকে দেখে ভালো লাগছে।’ এরপর তিনজন আড্ডায় মেতে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর গায়িকা কোনাল আসেন। সবাই একসঙ্গে আড্ডা দেন।

তনিমা হামিদ আসেন ফুল নিয়ে। তিনি একসময় প্রচুর নাটকে অভিনয় করেছেন এবং এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের সঙ্গে দেখা করেন।

জয়া আহসান। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার
জয়া আহসান। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার

চলচ্চিত্রের নতুন নায়িকা ঐশী ও মডেল-অভিনেত্রী শখ একসঙ্গে প্রবেশ করেন। প্রদর্শনী দেখে দুজনই আটতলায় যান। সেখানে অনেকক্ষণ আড্ডায় মেতে ছিলেন।

সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী অনুষ্ঠানে আসেন সন্ধ্যার একটু আগে। তাকে পেয়ে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে চলে ছবি তোলা। তাকে ঘিরে আরও শিল্পীদের আড্ডা বসে।

প্রদর্শনী দেখছেন বাঁধন। ছবি: স্টার
প্রদর্শনী দেখছেন বাঁধন। ছবি: স্টার

সুমাইয়া শিমু নির্ধারিত সময়েই আসেন। অন্য শিল্পীদের পেয়ে তারও সময় ভালো কাটে। সবার সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠেন।
গুণী অভিনেতা তারিক আনাম খান, স্ত্রী নিমা রহমান এবং পুত্র আরিক আনাম খান একসঙ্গে প্রবেশ করেন। ঢুকেই তারিক আনাম খান বলেন, ‘বলেছিলাম শুটিং না থাকলে আসব।’ এ কথা নিমা রহমান হাসি দেন।

প্রদর্শনী দেখে তারিক আনাম খান আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘আগে আসিনি বলেই এখন মন খারাপ লাগছে।’

একসময়ের ব্যস্ত অভিনেত্রী শান্তা ইসলাম এসে পরিচিতদের সঙ্গে ছবি তোলা শুরু করেন। তার পাশে বসেন তারিক আনাম খান ও নিমা রহমান। কাছাকাছি বসেন ওয়াহিদা মল্লিক জলি ও রহমত আলীসহ আরও অনেকে। শুরু হয় স্মৃতিচারণ।

জাকিয়া বারী মম। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার
জাকিয়া বারী মম। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার

পরিচালক আশফাক নিপুণ ডেইলি স্টারে পৌঁছে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। চয়নিকা চৌধুরীও প্রদর্শনী দেখেন। রুনা খান এসেছিলেন কিছু সময়ের জন্য। পরিচিতদের পেয়ে গল্পে মেতে ওঠেন। তার সঙ্গে আড্ড জমিয়ে তোলেন পরিচালক কৌশিক শংকর দাশ, সজল।

বনলতা এক্সপ্রেসের পরিচালক তানিম নুর। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার
বনলতা এক্সপ্রেসের পরিচালক তানিম নুর। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার

গায়িকা ঐশী ছিলেন কিছু সময়। সাবিলা নূর ও সাদিয়া আয়মানও দীর্ঘ সময় গল্পে কাটান।

সারিকা সহশিল্পীদের পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বহুদিন পর অনেকের সঙ্গে দেখা হলো, খুব ভালো লাগছে।’ তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন নাট্যপরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ।

এভাবে একে একে আরও অনেক তারকা এসেছিলেন। ধীরে ধীরে জমে ওঠে তারকাদের মিলনমেলা।

কণ্ঠশিল্পী কোনাল। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার
কণ্ঠশিল্পী কোনাল। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার

জয়া আহসান ফোন করে জানান, তিনি পাঁচটায় ঢুকবেন। তবে দেরি হয়ে যায়। পরে ৬টা ৪০ মিনিটে পৌঁছান তিনি। জয়া প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের সঙ্গে দেখা করেন।

নন্দিত অভিনেত্রী জয়া বলেন, এত বড় হামলার পর ডেইলি স্টারের এভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সত্যিই বিস্ময়কর।
তার সঙ্গে অনেকে ছবি তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি কাউকে নিরাশ করেননি।

সাবিলা নূর। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার
সাবিলা নূর। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার

সবশেষে আসেন অভিনেতা শাহেদ আলী। তার কিছু আগে আসেন সুষমা সরকার। শাহেদ আলী বলেন, ‘শুটিং থেকে এসেছি, তাই দেরি হয়েছে।’

এছাড়া আরও এসেছিলেন চিরকুট ব্যান্ডের সুমী, পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন, পরিচালক তানিম নূর, কণ্ঠশিল্পী কাজী শুভ, ধ্রুব মিউজিকের ধ্রুব গুহ, অভিনেত্রী সারিকা সাবাহ, পরিচালক তপু খান।

এক সময় আড্ডা ও গল্পে মুখর তারকাদের এই মিলনমেলা ভেঙে যায়।