কারওয়ান বাজারে দৈনিক ২-৩ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে: জামায়াত এমপি মিলন
রাজধানীর অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-১২ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল আলম খান মিলন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত সরকারের মতো বর্তমান সরকারের আমলেও সরকারি দলের লোকেরাই এই চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন। এমনকি শুধু কারওয়ান বাজারের কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে।
আজ সোমবার রাজধানীতে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এক বাজেট সংলাপে মিলন প্রশ্ন তোলেন, 'পারস্পরিক সমঝোতার' আড়ালে যে লেনদেন হয়, তাকে কি চাঁদাবাজি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়?
তিনি দাবি করেন, এই চাঁদাবাজির অর্থের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরই চাপে, যা সরাসরি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ১৩তম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা জামায়াত এমপি মিলনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং তার এই অবস্থানকে 'দুর্ভাগ্যজনক' বলে আখ্যা দেন।
মাহমুদা বলেন, আমার এলাকায় যদি আমি সাংসদ হই, যারা চাঁদাবাজি করবে— সরকারি দল হোক বা বাইরের দল হোক, আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করব এবং আইনের আশ্রয় নেব।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মিলন দাবি করেন, মামলাই নেওয়া হয় না, আইনের আশ্রয় কীভাবে নেওয়া হবে?
তিনি জানান, বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে এনেছেন এবং তার সহযোগিতা চেয়েছেন। এ ছাড়া চাঁদাবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য তিনি শিগগিরই সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন।
জনস্বার্থ বিবেচনায় কারওয়ান বাজার এবং মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সব ধরনের চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।