পর্যটকের অপেক্ষায় সাগরকন্যা কুয়াকাটা

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

ঈদুল আজহার টানা ছুটিকে ঘিরে আবারও প্রাণচাঞ্চল্যের অপেক্ষায় সাগরকন্যা কুয়াকাটা। নীল সমুদ্রের ঢেউ ও বিস্তীর্ণ সৈকতের বুকজুড়ে পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠার আশায় দিন গুনছেন এখানকার পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সৈকত-ঘেঁষা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন অতিথি বরণের প্রস্তুতিতে। অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টে ইতোমধ্যে ধোয়া-মোছা, সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হয়েছে। দোকানপাট ও খাবার হোটেলগুলোতেও ঈদকে সামনে রেখে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

তবু প্রস্তুতির ভিড়ের মাঝেও রয়েছে অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস। দীর্ঘদিন পর্যটক কম থাকায় ব্যবসায়ীরা কিছুটা হতাশ হলেও ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, আগামী শুক্রবার থেকেই কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল নামবে। তবে এখন পর্যন্ত আগাম হোটেল বুকিং তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকে কিছুটা উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন।

কুয়াকাটা প্রতি ঈদেই পর্যটকের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। কারণ এখানে একই দিগন্তে দেখা মেলে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের বিরল সৌন্দর্য। এবারও সেই প্রত্যাশাই করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

হোটেল ওশান প্যালেসের ম্যানেজার মো. পারভেজ বলেন, ‘আশা করছি ঈদকে ঘিরে শুক্রবার থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটবে। তবে এবার এখনো আগাম বুকিং তেমন নেই। আগের মতো হোটেল ব্যবসাও নেই।’

একই ধরনের আশা-নির্ভরতার কথা শোনা যায় হোটেল তাজওয়ারের পরিচালক রণজিৎ মিত্রের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার থেকে গেস্ট আসা শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।’

অন্যদিকে কিছুটা স্বস্তির খবরও আছে অভিজাত হোটেলগুলোয়। সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাস, খান প্যালেসসহ কয়েকটি তারকা মানের হোটেলে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে বলে জানান কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ।

তিনি বলেন, ‘হতাশা থাকলেও আমরা আশাবাদী। শুক্রবার থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। আগতদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ জানান, প্রায় দুই শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস পর্যটকদের স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনাতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে টুরিস্ট পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রস্তুতির আলো আর অপেক্ষার নীরবতা—এই দুইয়ের মাঝে কুয়াকাটা সৈকত যেন এখন উৎসবমুখর হয়ে ওঠার অপেক্ষায় আছে।