চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলায় নারীর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাজেদুল কবিরকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবর পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন ডা. সৌমিত্র সিংহ ও ডা. জয়দীপ পাল। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটি শুক্রবার বিকাল থেকে তাদের কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
মৃত সুমি বেগম উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মন্নান মিয়ার মেয়ে এবং খলিলপুর ইউনিয়নের সরকারবাজার এলাকার এমরান মিয়ার স্ত্রী।
তার মা রাহেনা বেগম অভিযোগ করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বুধবার দুপুরে সুমির পেট ব্যথা দেখা দিলে, তাকে নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু, বৃহস্পতিবার সকালে মেডিকেল পরীক্ষা শেষ করে হাসপাতালে সাধারণ মহিলা ওয়ার্ডে নিয়ে আসলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়।'
সুমির বাবা মন্নান মিয়া বলেন, তখন ডিউটিতে থাকা ডাক্তার ও সিনিয়র নার্সদের কাছে বারবার উন্নত চিকিৎসার জন্য সুমিকে মৌলভীবাজার নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু, তাদের কথা শোনেননি ডাক্তার-নার্সরা।
তিনি জানান, পরে দুপুর ১২টার দিকে সুমির অবস্থার আরও অবনতি হলে সিনিয়র নার্স অনিতা সিনহা ও মিডওয়াইফ রত্না মন্ডল তাকে একটি ইনজেকশন দেন।
এরপর থেকেই সুমির আর নড়াচড়া করেনি বলে জানান তিনি।
তার অভিযোগ, এ সময় ডিউটি ডাক্তার মুন্না সিনহা ও নার্সরা রোগী ঘুমিয়ে আছে বলে তাদের জানান।
পরে বিকেলে সুমির নড়াচড়া না দেখে নার্সকে জানানো হলে নার্সরা ডাক্তার মুন্না সিনহাকে নিয়ে আসে এবং তিনি সুমিকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মুন্না সিনহা তা অস্বীকার করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'রোগীকে মৌলভীবাজার পাঠানোর বিষয়ে তারা যা দাবি করেছেন তা সঠিক নয়। আর, এ বিষয়ে তারা হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন।'
রোগীর চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যোগাযোগ করা হলে তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. সাজেদুল কবির দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি দুই সদস্যকে নিয়ে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।'