সংক্রমণ আজ ১১ শতাংশে পৌঁছে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

করোনা সংক্রমণ আজ ১১ শতাংশে পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ বুধবার বিকেলে বিসিপিএস মিলনায়তনে কেওআইসিএ-এর কোভিড-১৯ সাপোর্টের আওতায় অ্যাম্বুলেন্স এবং এমআইএস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কম্পিউটার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যাদের বাইরে যেতে হয়, তাদের মাস্ক পরা জরুরি। অনেকে মাস্ক পরেন না। গতকাল সংক্রমণ ৯ শতাংশ ছিল, আজ ১১ শতাংশে পৌঁছে গেছে। এ যাবৎকালে ১ শতাংশ করে বাড়ছিল, গতকাল ও আজ ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এই হারে বাড়তে থাকলে কী অবস্থা হবে বোঝা যাচ্ছে। গতকাল ছিল আড়াই হাজার। আজকের স্ট্যাটিসটিক হলো ২ হাজার ৯০০, প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছে গেছে। ১০-১৫ দিন আগেও এ রকম ছিল না।

তিনি বলেন, এভাবে সংক্রমণ বাড়লে একটা শতাংশ হাসপাতালেও আসবে। আমাদের হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ছিল ২৫০-৩০০-৪০০। ইদানিং হাজারের উপরে চলে গেছে রোগী। ইতোমধ্যে রোগী আসা শুরু হয়ে গেছে। আমরা দেখবো আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে একটা অন্বাষা পেশেন্ট হয়ে যাবে হাসপাতালে। তখন আবার একটা কষ্টকর অবস্থা হয়েছে। হাসপাতালে ডাক্তার-নার্সদের ওপর প্রেসার পড়বে, সিট পেতে অসুবিধা হবে। মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে। এখন মৃত্যুর হার কম আছে কারণ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। যদি ৩ গুণ-৪ গুণ হয়ে যায় তাহলে কিন্তু খুব বেকায়দায় পড়তে হবে। আমরা ২০ হাজার বেড প্রস্তুত করেছিলাম। রোগী যদি ১ লাখ হয় তাহলে কোথায় থাকবে? প্রত্যেকটা দেশের একটা সক্ষমতা আছে। আমরা যতই বাড়াই সব কিছুর লিমিট আছে। সেদিকে খেয়াল রেখে আমাদের কাজ করতে হবে।

ওমিক্রন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যত বেশি লোক আক্রান্ত হবে তত বেশি লোক হাসপাতালেও চলে আসবে এবং মৃত্যুর হারও বাড়বে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১১ দফা বিধি-নিষেধ দিয়েছে। আগামীকাল থেকে বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। আগামীকাল থেকে সামাজিক-রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো সেগুলো সীমিত ও বন্ধ করতে হবে। নিরুৎসাহিত করতে হবে। সব জায়গায় মাস্ক পরতে হবে। যদি না পরে তাহলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হবে, জেল পর্যন্ত হতে পারে। দোকান-পাট ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। মাস্ক না পরে কেউ যানবাহনে চড়বেন না। পর্যটনকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

টিকাদান কার্যক্রম প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ৮ কোটির বেশি প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন দিয়েছি, পৌনে ৬ কোটি দ্বিতীয় ডোজ আমরা দিয়েছি। ছাত্রদের ভ্যাকসিনও অগ্রগতি লাভ করেছে। প্রায় ৬৫ লাখ হয়ে গেছে এবং আমাদের ১ কোটি ২৮ লাখ দিতে হবে। আশা করি, এ মাসের মধ্যে আমরা কাভার করে ফেলবো যদি ছাত্র-ছাত্রীরা আসে। মানুষকে যদি কোনো লিমিটের মধ্যে না ফেলা হয় সে আসে না। ছাত্র-ছাত্রীদের আমরা ডেকে আনতে পারিনি। যেই বলা হয়েছে, ভ্যাকসিন ছাড়া স্কুলে যেতে পারবে না তখন সবাই রাস করছে ভ্যাকসিনের জন্য। আমাদের ভ্যাকসিনের কোনো অভাব নেই। এখনো ৬-৭ কোটি ভ্যাকসিন আমাদের হাতে আছে। আমরা প্রস্তুত আছি হাসপাতাল নিয়ে কিন্তু লিমিটের মধ্যে। সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে কোনো অনুষ্ঠান হবে না। এটাই সরকারের নির্দেশনা। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে, চিকিৎসা দিতে পারে। সমস্যা তুলে ধরতে পারে। কিন্তু এটার যে প্রতিকার, প্রোগ্রাম হবে কি না স্বাস্থ্য বিভাগতো সেটা আটকাতে পারবে না। স্বাস্থ্য বিভাগ পরামর্শ দিয়ে আসছে, দিয়ে যাবে। কার্যক্রম এটাকে বাস্তবায়ন করার জন্য অন্যান্য মন্ত্রণালয় রয়েছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় জোনের কথা বলেনি। কেউ যদি বলে থাকে তাহলে নিজে থেকে বলেছে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী যারা উচ্চ শিক্ষা নিতে কোচিং করার জন্য ১ জেলা থেকে অন্য জেলায় যাচ্ছেন। তাদের টিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়ম হলো যে স্কুল থেকে শিক্ষার্থী প্রথম ডোজ নিয়েছে, সেখান থেকেই দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে। তা না হলে হিসাব রাখা সম্ভব হবে না, বিশৃঙ্খলা হবে। তারপরও টিকা কার্ড নিয়ে এলে বিশেষ ক্ষেত্রে দেখা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আমাদের স্বাস্থ্য সেবা আরও উন্নত করার চেষ্টা করছি। হালনাগাদ করার চেষ্টার করছি। যারা আমাদের কমিউনিটি ক্লিনিকে কাজ করেন তাদের আমরা ল্যাপটপ দিচ্ছি। এতে বিভিন্ন হাসপাতালের রোগীর তথ্য আমরা জানতে পারবো। হেলথ সিস্টেম ডিজিটালাইজড করছি। প্রায় দেড়-দুই হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। সেই কাজ চলমান। এখন আমরা একনেকে নিয়ে যাব প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য। এটা আমরা যদি করতে পারি তাহলে আরেকটা মাইলস্টোন হবে। আমাদের দেশের স্বাস্থ্য সেবায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।