ট্রাম্প নিযুক্ত জেফরি ক্লার্ক যেভাবে নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে চেয়েছিলেন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিযুক্ত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক অ্যাসিট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল জেফরি ক্লার্ক বিচার বিভাগকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে চেয়েছিলেন। তবে, গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া কিছু তথ্য অবৈধভাবে ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সাহায্য করেছিল।
সিএনএন জানায়, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ষড়যন্ত্র করে হারানোর অভিযোগ তুলেন। ঠিক তখনই জেফরি ক্লার্ক জানান, চীনা গোয়েন্দারা মেশিনে ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করতে বিশেষ ধরনের থার্মোমিটার ব্যবহার করেছে। এই বিষয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে এবং লোকজনও তা বিশ্বাস করেন। তবে, বিচার বিভাগ ততক্ষণে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্বাচনে ভোট পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ক্লার্ক ২০২০ সালে ২৮ ডিসেম্বর তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একটি অস্বাভাবিক মেইলের মাধ্যমে নির্বাচনে কারচুপির বিষয়ে জনগণের যে বিশ্বাস তার ওপর ব্রিফিং করার অনুমতি চান। মূলত তার উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের কারচুপি হয়েছে এমন তথ্য তুলে ধরা।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জেফরি রোজেনের অনুরোধে তৎকালীন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জন রাটক্লিফ ব্রিফিং করেন। তারা ভোট গণনায় কোনো ধরনের কারচুপির প্রমাণ পাননি। মূলত ক্লার্কের ভিত্তিহীন দাবি বন্ধ করতেই রোজেন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা এটি করেছিলেন।
ট্রাম্পের অনুগত ক্লার্ক, যিনি নির্বাচনের আগে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন, তিনি রাটক্লিফের কথা শুনে বিচলিত হননি। ক্লার্ক দাবি করেছিলেন, চীন ও ইরান বাইডেনকে জেতানোর জন্য কাজ করছে, অন্যদিকে রাশিয়া ট্রাম্পকে সমর্থন করছে।
ব্রিফিংয়ের সময় ক্লার্ক শুধু রাটক্লিফের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেননি বরং গোয়েন্দাদের বিশ্লেষণ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করনে।
ক্লার্ক সহকর্মীদের বলেছিলেন যে, তিনি এমন কিছু সূত্র পেয়েছেন, যারা তাকে কারচুপির বিষয়ে আরও অনেক তথ্য দিয়েছে।
ক্লার্কের একটি ই-মেইল প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে চীনের তৈরি ডিজিটাল থার্মোমিটার ভোটিং মেশিনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল তা প্রমাণ করার জন্য তিনি কীভাবে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের কাছে তথ্য চেয়েছিলেন, তার উল্লেখ আছে।
ই-মেইলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তিনি লিখেছিলেন, বিদেশিরা কীভাবে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছে তার প্রমাণ তিনি ব্রিফিংয়ে দিতে চান। চীনের একটি যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচনে কারচুপি করা হয়েছে, এ সম্পর্কে হ্যাকারদের কাছে প্রমাণ আছে বলে তিনি ই-মেইলে উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, তারা আসলে নির্বাচনে কারচুপির কোনো প্রমাণ পাননি। তাই তারা ই-মেইলের কোনো উত্তর দেননি।