সিরিয়ায় মার্কিন অভিযানে আইএস প্রধান কুরাইশি সপরিবারে নিহত
উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সেনা অভিযান চলাকালে ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের প্রধান নেতা আবু ইব্রাহিম আল-হাশিমি আল-কুরাইশি সপরিবারে নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, বৃহস্পতিবার বিশেষ এ অভিযান চলাকালে কুরাইশি আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে পরিবারের সবাইকে নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এপি জানায়, বৃহস্পতিবার ৫০ জনের বিশেষ একটি মার্কিন সেনা দল হেলিকপ্টারে তুরস্কের সীমানার কাছাকাছি আতমেহ শহর যায় এবং একটি ভবনে হামলা চালায়। সেখানে বন্দুকধারীদের সঙ্গে তাদের ২ ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়।
পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি জন কিরবি বলেন, 'মার্কিন বাহিনী ভবনটি থেকে ১০ জনকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। প্রথম তলা থেকে ১ জন পুরুষ, ১ জন নারী ও ৪ জন শিশু এবং আরও ৪ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়।'
তিনি বলেন, 'আল-কুরাইশি যখন বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়, তখন সে তার স্ত্রী ও ২ সন্তানকেও হত্যা করে।'
অভিযানে ৬ শিশু ও ৪ নারীসহ মোট ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ পরীক্ষা করে আইএস নেতা আল-কুরেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এপি জানায়, কুরাইশি এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল।
২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আবু বকর আল-বাগদাদি মারা যাওয়ার পর আবু ইব্রাহিম আল-হাশিমি আল-কুরাইশি এই জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রধানের দায়িত্ব নেন।
বাগদাদিও একইভাবে মার্কিন অভিযান চলাকালে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে পরিবারের নারী ও শিশুদের নিয়ে মারা যান।
সিরিয়ায় আইএস যখন পুনরুত্থানের চেষ্টা করছে তখন এ অভিযান চালানো হলো। সম্প্রতি বেশ কিছু ধারাবাহিক আক্রমণের মধ্যে গত মাসের শেষ দিকে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার একটি কারাগারে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গি গোষ্ঠীটি। সেখানে অন্তত ৩ হাজার আইএস সদস্য বন্দি ছিল।
বাইডেন এ অভিযানের বিষয়ে বলেন, 'আমাদের সেনাদের সাহসিকতার জন্য ধন্যবাদ। এই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী নেতা আর বেঁচে নেই।'
আল-কুরাইশি কারাগারে হামলার পাশাপাশি ২০১৪ সালে ইরাকে ইয়াজিদিদের বিরুদ্ধে চালানো গণহত্যার জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করেন তিনি।