পারমাণবিক চুক্তির আলোচনা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে: ইরান
ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আজ সোমবার জানান, ইরানের ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজটি 'আরও কঠিন' হয়ে গেছে। তিনি এর পেছনে কারণ হিসেবে দাবি করেন, পশ্চিমা শক্তিরা কেবল নতুন উদ্যোগ আনার ভান করেছেন, কিন্তু বাস্তবে এ বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি বললেই চলে।
রয়টার্স জানায়, ১০ দিন বিরতির পর অস্ট্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরোক্ষ আলোচনা আবারো শুরু হয়েছে। প্রতিনিধিরা জানান, নভেম্বর থেকে আলোচনা আবার শুরু হলেও অগ্রগতি খুবই সীমিত। এর আগে, ইরানে কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি নির্বাচিত হওয়ার পর আলোচনা ৫ মাস থমকে ছিল।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব আলী শামখানি এক টুইটবার্তায় বলেন, 'ইরানের প্রতিনিধিদের জন্য আলোচনার মাধ্যমে অগ্রগতি আনার কাজটি প্রতি মুহূর্তে আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ইতোমধ্যে পশ্চিমের শক্তিরা তাদের দায়বদ্ধতা এড়াতে নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে আসার "ভান" করেছে।'
ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় রাশিয়ার প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ এর আগে টুইটবার্তায় জানান, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানান, ২০১৫ সালের চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
এ আলোচনা ও চুক্তির মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের কলেবর কমিয়ে আনার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের আরোপ করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।
এ সমঝোতা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরানের ইউরেনিয়াম আহরণ ও মজুদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
বিধিনিষেধ আরোপের আগে চাইলে ইরান ২-৩ মাসের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ইউরেনিয়াম আহরণ করতে পারতো, কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ সময়সীমা কমপক্ষে ১ বছরে গিয়ে দাঁড়ায়। তবে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ বলছেন, চুক্তির সময়ের তুলনায় এখনকার পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন এবং এ সময়সীমা খুব সম্ভবত আরও কমে এসেছে।
ইরান সব সময়ই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের ওপর আবারো শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা চালু করেন। ইরান থেকে তেল আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং এতে দেশটির (ইরানের) অর্থনীতি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইরান বিশ্বের ৬টি পরাশক্তির সঙ্গে তার পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আসতে সম্মত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন এবং রাশিয়া, অর্থাৎ পি ফাইভ প্লাস ওয়ান নামে পরিচিত পরাশক্তিগুলি ছিল এই চুক্তির অংশীদার।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান চুক্তির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাকে অবজ্ঞা করে। তারা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম আহরণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে তারা আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে আরও দক্ষ হয়েছে এবং মারণাস্ত্র তৈরির মতো যথেষ্ট পরিমাণ ইউরেনিয়াম আহরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।