যে কারণে বিমানবাহিনীকে ব্যবহার করছে না রাশিয়া

স্টার অনলাইন ডেস্ক

রাশিয়া অবিলম্বে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবে এ ধরনের যে ধারণা ছিল তা আক্রমণের প্রথম ৬ দিনে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। রাশিয়া কেন তার বিশাল বিমানবাহীকে ব্যবহার করছে না তা অনেককে বিভ্রান্ত করেছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ইউক্রেনের আকাশে আধিপত্য বিস্তার করার জন্য দেশটির সামরিক বাহিনী ধ্বংস করতে রাশিয়া তার বিশাল বিমানবাহিনীকে দ্রুত কাজে লাগাবে।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তবে প্রথম ৬ দিনে সেই ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত করেছে। মস্কো তার বিমানবাহিনী নিয়ে আরও সূক্ষ্মভাবে কাজ করছে। রাশিয়ার আপাতত 'ঝুঁকি-বিরুদ্ধে' আচরণ কেমন হবে মার্কিন কর্মকর্তারা তা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারছেন না।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, 'তারা (রাশিয়া) তাদের নিজস্ব বিমান এবং পাইলটদের নিয়ে উচ্চ ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক নয়।'

রাশিয়ার তুলনায় ইউক্রেনের সেনা ও সামরিক শক্তি অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও এখনো ইউক্রেনের নিজস্ব বিমান বাহিনী তাদের আকাশে উড়ছে এবং এর বিমান প্রতিরক্ষা এখনো কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে। এটি সামরিক বিশেষজ্ঞদের বিস্মিত করেছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন, রাশিয়ান সামরিক বাহিনী অবিলম্বে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী এবং বিমান প্রতিরক্ষা ধ্বংস করার চেষ্টা করবে।

লন্ডনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (আরইউএসআই) থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক দ্য মিস্টিরিয়াস কেস অফ দ্য মিসিং রাশিয়ান এয়ার ফোর্স নামে একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, 'এটি যৌক্তিক এবং ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত ধারণা ছিল। কারণ ১৯৩৮ সাল থেকে প্রায় প্রতিটি সামরিক সংঘাতে এমন চিত্র দেখা গেছে।'

ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর ফাইটার জেটগুলো এখনো নিম্ন-স্তরে আছে। তারা প্রতিরক্ষামূলক পাল্টা-আক্রমণ এবং স্থলপথে-আক্রমণ চালাচ্ছে। রাশিয়া এখনো বিবদমান আকাশসীমা দিয়ে উড়ছে।

ইউক্রেনের সেনারা ও তাদের রকেটগুলো রাশিয়ান বিমানবাহিনীর জন্য হুমকিস্বরুপ এবং স্থল বাহিনীকে সমর্থন করার চেষ্টা করা রাশিয়ান পাইলটদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে সক্ষম।

ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রাশিয়ান সামরিক বিশেষজ্ঞ রব লি বলেন, 'তারা (রাশিয়া) অনেক কিছু করছে যা বিভ্রান্তিকর।'

তিনি ভেবেছিলেন সর্বাধিক শক্তি প্রয়োগের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূচনা হবে।

তিনি বলেন, 'কারণ প্রতিদিন এটি চলতে থাকে, সেখানে ক্ষতি হয় এবং ঝুঁকি বেড়ে যায়। তারা তা করছে না এবং কেন করছে না তা বাস্তবসম্মত কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা সত্যিই কঠিন।'

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন কিয়েভের একটি নো-ফ্লাই জোনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করার পর রাশিয়া কীভাবে তার বিমান বাহিনী ব্যবহার করেছে তা নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়টি উঠে আসে।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থলপথে থাকা সেনাদের সঙ্গে রাশিয়ান বিমান বাহিনীর সমন্বয়ের অভাব আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা রাশিয়া ইউক্রেনে বর্তমানে ৭৫টি বিমান ব্যবহার করছে।