দনবাসে পুরোদমে হামলা শুরু করেছে রাশিয়া: জেলেনস্কি

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আগ্রাসনের ৫৫তম দিনে এসে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বদিকের দনবাস অঞ্চলে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত হামলা পুরোদমে শুরু করেছে।

আজ মঙ্গলবার রয়টার্স জানায়, সোমবার সকাল থেকেই রুশ বাহিনী ইউক্রেনীয়দের গড়ে তোলা প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। একে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া সোমবার থেকে দেশের পূর্ব প্রান্তে 'দনবাসের যুদ্ধ' শুরু করেছে এবং এ মুহূর্তে রুশ সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ এই যুদ্ধে নিয়োজিত।

ভিডিওর মাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, 'তারা সেখানে যত রুশ সেনাই পাঠাক না কেন, আমরা লড়ে যাব। আমরা নিজেদের রক্ষা করব।'

জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ আন্দ্রেই ইয়েরমাক ইউক্রেনের জনগণকে আশ্বস্ত করে জানান, তাদের বাহিনী যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়েই আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হবে।

'আমাদের সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা রাখুন। এটি খুবই শক্তিশালী', যোগ করেন তিনি।

ইউক্রেনের গণমাধ্যমে দোনেৎস্ক অঞ্চলের ফ্রন্ট লাইনে বেশ কয়েক দফা বোমাবর্ষণের সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি বেশ শক্তিশালী বোমা বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়াও, মারিনকা, স্লাভিয়ানস্ক ও ক্রামাটরস্ক এলাকা থেকেও বোমাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে উত্তর-পূর্ব দিকের খারকিভ, দক্ষিণের মিকোলাইভ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকের ঝাপোরিঝঝিয়া থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে উড়োজাহাজ হামলার সতর্কীকরণ সাইরেন শোনা গেছে বলেও দাবি করেছে কিছু গণমাধ্যম।

রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

ইউক্রেনের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওলেকসি দানিলভ জানান, রুশ বাহিনী দোনেৎস্ক, লুহানস্ক ও খারকিভ অঞ্চলে ঝটিকা আক্রমণ চালিয়ে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলতে চেয়েছে।

তবে দেশের উত্তরে ইউক্রেনের বাহিনী রাশিয়াকে পিছু হটতে বাধ্য করায় তারা আবারো সংগঠিত হয়ে দনবাসের দুই অঞ্চলে হামলা চালানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে। ইতোমধ্যে তারা কিয়েভসহ অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার হামলা অব্যাহত রেখেছে।

Destroyed Russian armored vehicle
দোনেৎস্ক অঞ্চলে ধ্বংসপ্রাপ্ত রুশ সাঁজোয়া যানের পাশে এক ইউক্রেনীয় নাগরিক। ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস দনবাস অঞ্চল। এখানে কয়লা ও ইস্পাতসহ আরও অনেক মূল্যবান খনিজ উপকরণ পাওয়া যায়।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা এক রাতের মধ্যে একশরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সমর্থ হয়েছে।

আজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার মিত্রদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ফোনে কথা বলবেন। রাশিয়াকে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য কীভাবে দায়বদ্ধ করা যায়, সে বিষয়ে এ ফোন কলে আলাপ হতে পারে বলে জানা গেছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানান, ইউক্রেনে গণহত্যার প্রমাণ পাওয়ার পর পুতিনের সঙ্গে তার সংলাপ থমকে গেছে।

গতকাল জাতিসংঘ জানায়, ইউক্রেনে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৭২ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং ৪০ লাখেরও বেশি ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

রাশিয়া আগ্রাসনের শুরু থেকেই বেসামরিক স্থাপনা ও ব্যক্তিদের ওপর হামলার কথা অস্বীকার করে এসেছে। তাদের দাবি, 'বিশেষ সামরিক অভিযানের' লক্ষ্য হচ্ছে ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ ও দেশটি থেক উগ্র জাতীয়তাবাদ নির্মূল করা। তারা যুদ্ধাপরাধের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ নিজেরাই এসব ঘটনা ঘটিয়ে শান্তি আলোচনাকে বিঘ্নিত করতে চায়।