'কাবুল থেকে পালিয়ে, আরেক যুদ্ধের মাঝে’
তালেবানরা গত বছরের আগস্ট মাসে আফগানিস্তান দখলে নিলে যুদ্ধের ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে ইউক্রেনে আশ্রয় নেন বেশ কিছু আফগান। সেখানে তারা আবার নতুন করে যুদ্ধের মধ্যে পড়েছেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতার কথা।
৩৬ বছর বয়সী সাবেক আফগান সেনা হায়দার সিদ্দিকি বিবিসিকে বলেন, 'ইউক্রেনের পরিস্থিতি যা দেখছি, আফগানিস্তানে যখন তালেবানরা ক্ষমতা দখল করে তখন সেখানকার পরিস্থিতি এর চেয়ে ভালো ছিল। আমরা এখন আবারও পালিয়ে যাচ্ছি, তবে এবার একেবারে অজানা গন্তব্যের দিকে।'
সিদ্দিকি বিবিসিকে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর ইউক্রেনের একটি শরণার্থী শিবিরে নামাজের জন্য জেগে উঠেন। তার কিছুক্ষণ পর রাশিয়ার হামলা শুরু হলে তিনি বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েন।
তিনি বলেন, 'এই খবর শোনার পর ক্যাম্পের লোকেরা চিৎকার করতে থাকে যতক্ষণ না ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ দরজা খুলে আমাদের পালিয়ে যেতে বলে।'
তারা ৭৫ কিলোমিটারেরও বেশি পথ হেঁটে উত্তরের শহর চেরনিহিভ পর্যন্ত পৌঁছেছেন, যেটি এখন একটি সংঘাতপূর্ণ এলাকা। সিদ্দিকি এখন ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ফজিলা হায়দারি (২৬) ও তার ছোট বোন আফগানিস্তানে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ছিলেন। তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পর তারা পালিয়ে পশ্চিম ইউক্রেনের লুভিয়ে এসে পৌঁছান।
তারা এখন তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার জন্য ইউক্রেনে অপেক্ষা করছেন। তারা মরিয়া হয়ে সাহায্য চাচ্ছেন, তাদের পরিচিত কারও সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।
মিসেস হায়দারি বিবিসিকে বলেন, 'আমরা ভেবেছিলাম এখানে থাকা নিরাপদ হবে কিন্তু পরিস্থিতি দেখুন। আমি ইউএনএইচসিআর এবং অন্যান্য সংস্থাকে জানিয়েছে, কিন্তু কেউ আমাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না।'
'আমি খুশি ছিলাম যে আমি তালেবানদের হাত থেকে বেঁচে গেছি, কিন্তু আমি এখন ভাবছি যে, কাবুল ত্যাগ করা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল কি না। কারণ আমি এখন অন্য আরেকটি যুদ্ধের মাঝখানে পেড়ে গেছি।'
তারা এখন লুভিভ ছেড়ে পোলান্ড সীমান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
ইউক্রেনে আনুমানিক ৫ হাজার আফগান বসবাস করছেন। যার মধ্যে ৩৭০ জন গত আগস্ট মাসে তালেবানরা পুনরায় দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ইউক্রেনে আশ্রয় নেন।