ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধ করছেন ৬৩ দেশের ৬৮২৪ ভাড়াটে সৈনিক: রাশিয়া
বিশ্বের মোট ৬৩টি দেশের ৬ হাজার ৮২৪ জন ভাড়াটে সৈনিক ইউক্রেনে ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারের পক্ষে যুদ্ধ করছেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
গতকাল রোববার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানায়।
আরটি'র প্রতিবেদন অনুসারে, ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধ করতে আসা ১ হাজার ৩৫ জন সৈন্যকে 'নির্মূল করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪০০ জন বিদেশি যোদ্ধা মারিউপোলে আটকে আছেন, যেখানে 'উগ্র জাতীয়তাবাদী বাহিনী' আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ইউক্রেনে আসা বিদেশি যোদ্ধাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭১৭ জন এসেছেন পোল্যান্ড থেকে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, কানাডা ও রোমানিয়া থেকে এসেছেন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার সেনা। পাশাপাশি প্রায় ৩০০ যোদ্ধা এসেছেন যুক্তরাজ্য ও জর্জিয়া থেকে। আর সিরিয়া থেকে এসেছেন ১৯৩ জন যোদ্ধা।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগর কোনাশেঙ্কভের বক্তব্য, রুশ বাহিনী ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৫ জন ভাড়াটে সেনাকে হত্যা করেছে। আরও ৯১২ জন সৈন্য ইউক্রেন থেকে পালিয়ে গেছেন। এই মুহূর্তে কিয়েভ, খারকিভ, ওডেসা, নিকোলায়েভ ও মারিউপোলে মোট ৪ হাজার ৮৭৭ জন বিদেশি সৈন্য যুদ্ধ করছেন।
কোনাশেঙ্কভ জানান, ৪০০ জন ভাড়াটে যোদ্ধা ইউক্রেনের 'উগ্র জাতীয়তাবাদী' সেনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মারিউপোলের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন। শহরের বেশিরভাগ অংশ রুশ বাহিনীর দখলে থাকলেও, ইউক্রেনের কিছু সেনা সোভিয়েত আমলে নির্মিত প্রায় দুর্ভেদ্য আজভস্টল ইস্পাত কারখানায় ট্রেঞ্চ তৈরি করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।
কোনাশেঙ্কভ বলেন, 'তাদের (মারিউপোলে যুদ্ধরত বিদেশি সেনা) বেশিরভাগই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিক। সঙ্গে কিছু কানাডার নাগরিকও আছেন।'
তিনি আরও জানান, ওই ইস্পাত কারখানা থেকে আসা রেডিও বার্তায় ৬টি বিদেশি ভাষা চিহ্নিত করতে পেরেছে রুশ বাহিনী। এ সপ্তাহের শুরুতে মারিউপোলের আরেকটি ইস্পাত কারখানায় ইউক্রেনের ৩৬তম মেরিন ব্রিগেডের ১ হাজারেরও বেশি সদস্য আত্মসমর্পণ করে।
এদিকে গতকাল সকালে আজভস্টলের প্রতিরোধ যুদ্ধে নিয়োজিত ইউক্রেনীয় সেনাদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেয় রুশ কর্তৃপক্ষ। অস্ত্র নামিয়ে আত্মসমর্পণ করলে প্রাণে বাঁচতে পারবেন– এমন প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয় তাদের।
তবে তারা কেউ আত্মসমর্পণ করেননি। রোববার বিকেলেও কারখানার কাছে ভারি অস্ত্রের গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
আজভস্টলে যুদ্ধরত বিদেশি সেনাদের উদ্দেশ্য করে কোনাশেঙ্কভ বলেন, 'প্রতিরোধ অব্যাহত রাখলে সবাইকে নির্মূল করা হবে। আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, বিদেশি ভাড়াটে সৈনিকরা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীর মর্যাদা পান না।'
তিনি আরও বলেন, 'তারা (ভাড়াটে সৈনিক) ইউক্রেনে এসেছেন স্লাভদের (ইউরোপের একটি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, যার মধ্যে রাশিয়া ও বেলারুশের নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত) হত্যা করে অর্থ উপার্জন করতে। সুতরাং তাদের জন্য সর্বোচ্চ পুরস্কার হবে ফৌজদারি দায় ও দীর্ঘ কারাবাস।'
রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই কিয়েভ মস্কোর বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণে আগ্রহী যেকোনো দেশের যেকোনো নাগরিকের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার জানায়। আগ্রহী যোদ্ধা ও স্বেচ্ছাসেবকরা পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ইউক্রেনীয় দূতাবাসগুলোতে পরিদর্শন করেন ও যুদ্ধে অংশে নেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেন। তাদের অনেকে আবার নিজ দেশের সরকারের আশীর্বাদও পেয়েছেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই ভাড়াটে সেনারা ইউক্রেনে পৌঁছান।
তবে, মার্চের পর আর তেমন কোনো ভাড়াটে সেনা ইউক্রেনে আসেনি। এপ্রিলে এসে এ প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ইউক্রেনের এক মুখপাত্র কানাডার গণমাধ্যমের কাছে জানান, অপ্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মুখ যুদ্ধে পাঠিয়ে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। তারা সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই তৈরি করছেন বেশি। অন্যদিকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ অন্যান্য রসদও কমে এসেছে।
এরমধ্যে কিছু স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধা তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা অনলাইনে জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অপর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তাদেরকে সম্মুখযুদ্ধে পাঠানো হয়। রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে লিভিভে বিদেশিদের জন্য নিবেদিত একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস হওয়ার পর বিদেশি যোদ্ধা ও স্বেচ্ছাসেবকদের ইউক্রেনে আসার আগ্রহ অনেকাংশে কমে যায়।