অস্তিত্ব বিপন্ন হলে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার: রাশিয়া

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মস্কো পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না- এমন আশ্বাস দেওয়ার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রধান মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন মনে হলে তারা পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন।

গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে পেসকোভ আরও বলেন, রাশিয়া এখনো ইউক্রেনে পরিচালিত বিশেষ অভিযান থেকে তাদের সামরিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করত পারেনি।

দিমিত্রি পেসকোভের এই সাক্ষাৎকারটি নেন সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিস্টিয়ান আমানপোর। ইউক্রেনে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন কি করবেন না, সে সম্পর্কে পেসকোভ কতটা নিশ্চিত– আমানপোরের এমন এক প্রশ্নের জবাবে পেসকোভ বলেন, 'দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের একটি নীতিমালা আছে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত। ঠিক কি কারণে ও পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে, তা আপনারা পড়ে নিতে পারেন। সুতরাং, যদি আমাদের দেশের জন্য হুমকি তৈরি হয়, তবে আমাদের নীতিমালার সঙ্গে সংগতি রেখে এর (পারমাণবিক অস্ত্র) ব্যবহার হতে পারে।'

এর আগে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইংগিত দেন পুতিন। গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ প্রেসিডেন্ট টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে বলেন, 'যে বা যারা আমাদের পথে বাধা ও হুমকির সৃষ্টি করবে, তাদের জেনে রাখা উচিৎ, রাশিয়া তাৎক্ষনিকভাবে প্রত্যুত্তর দেবে এবং পরিণতি এমন হবে, যা আপনারা আপনাদের পুরো ইতিহাসে দেখেননি।'

পরবর্তীতে রুশ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, 'শীর্ষ ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কর্মকর্তারা আমাদের দেশকে নিয়ে আগ্রাসী মন্তব্য করেছে। ফলে আমি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ককে নির্দেশ দিচ্ছি রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতাকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখতে।'

ইউক্রেন অভিযান থেকে অর্জন সম্পর্কে পুতিনের মনোভাবের বিষয়ে জানতে চাইলে পেসকোভ আমানপোরকে জানান, 'এখনও (লক্ষ্য) অর্জন হয়নি।

পেসকোভ দাবি করেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযান তাদের পরিকল্পনা ও পূর্ব নির্ধারিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এগুচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে পেসকোভ পুতিনের কথাগুলোই পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি জানান, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইউক্রেনকে একটি 'নিরপেক্ষ দেশ' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং ইউক্রেন থেকে জাতীয়তাবাদীদের দূর করে তাদের এ বিষয়টি মেনে নিতে বাধ্য করা যে, ক্রিমিয়া এখন রাশিয়ার অংশ এবং লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক ইতোমধ্যে স্বাধীন রাজ্যের মর্যাদা পেয়েছে।

পেসকোভ দাবি করেন, যুদ্ধে রাশিয়া কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।

এমন এক সময় পেসকোভ এই সাক্ষাৎকার দিলেন, যখন পশ্চিমা দেশগুলোর গোয়েন্দারা বলছে, ইউক্রেনের বিভিন্ন অংশে রুশ অভিযান থমকে গেছে।