হাইতির প্রেসিডেন্টকে হত্যাকারী ৪ ‘আততায়ী’ বন্দুকযুদ্ধে নিহত
হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসির হত্যাকারীদের মধ্যে সন্দেহভাজন চার জন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
রয়টার্স জানায়, আজ বুধবার হত্যাকারীদের সঙ্গে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
বুধবার রাতে পুলিশের মহাপরিচালক লিওন চার্লস গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে চার আততায়ী নিহত হয়েছেন এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় আমরা তাদের পথে আটকে দেই। এরপর তাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। তাদের হত্যা অথবা গ্রেপ্তার করা হবে। ঘাতকদের সবাইকে বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী বিশ্রাম নেবে না।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত হাইতির রাষ্ট্রদূত এডমন্ড রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) এজেন্টের ছদ্মবেশের ওই বন্দুকধারীরা রাতের আঁধারে কঠোর নিরাপত্তার ফাঁক গলে মইসির বাসভবনে প্রবেশ করে। সম্ভবত এভাবেই তারা বাড়িটিতে প্রবেশ করতে পেরেছিল।
হামলাকারীদের ‘বিদেশি ভাড়াটে সেনা’ উল্লেখ করে ‘তারা অত্যন্ত প্রশিক্ষিত খুনি বলে’ জানিয়েছেন এডমন্ড।
হত্যাকাণ্ডের পর আততায়ীদের গ্রেপ্তারের জন্য হাইতির সরকার দুই সপ্তাহের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ক্লদে জোসেফ গণমাধ্যমকে জানান, প্রেসিডেন্টের খুনিরা ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে।
বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই নৃশংস অপরাধের শাস্তি হবেই।’
আহত ফার্স্ট লেডিকে চিকিৎসার জন্য আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।
গতকাল নিজ বাসভবনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসি। ৫৩ বছর বয়সী জোভেনেল মইসি তার পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট মিশেল মার্টেলির পদত্যাগের পর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ক্ষমতায় ছিলেন।
প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইতিতে প্রায়ই সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে দেশটির রাজধানীসহ অন্যান্য শহরে তার পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।
হাইতির জনসংখ্যা প্রায় এক কোটি ১০ লাখ। ১৯৮৬ সালে ডুভেলিয়ারের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অবসানের পর থেকেই দেশটিতে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। দেশটিতে বেশ কয়েকবার অভ্যুত্থান ও বিদেশি হস্তক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের ফলে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। এই হত্যাকাণ্ডে নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিবেশী দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো।