৪ বার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেন এমপি আব্দুল কুদ্দুস

নিজস্ব সংবাদদাতা, নাটোর

চতুর্থ বারের মতো আচরণবিধি ভেঙে নাটোর পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী উমা চৌধুরী জলির পক্ষে ভোট চাইলেন নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস

আচরণবিধি ভঙ্গ করার আগের ঘটনায় তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এর পরও আইন ভেঙে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট চাইলেন আব্দুল কুদ্দুস।

গতকাল সোমবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে নাটোর শহরে আয়োজিত এক সভায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উমা চৌধুরী জলির পক্ষে প্রচারণা চালাতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন আব্দুল কুদ্দুস। আগামী ১৬ জানুয়ারি নাটোর পৌরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা।

এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর শহরের কান্দভিটুয়া জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় আব্দুল কুদ্দুসসহ আরও দুই সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রত্না আহমেদ নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন।

১৮ ডিসেম্বর বিকেলে নাটোর শহরের কানাইখালী পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে বিজয় দিবসের র‍্যালি শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কুদ্দুস আবারও আচরণবিধি ভঙ্গ করে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন।

এসব ঘটনায় সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি মেনে চলার জন্য চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন।

চিঠি পাওয়ার পর ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে নাটোর পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে আব্দুল কুদ্দুস নৌকায় ভোট দিতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন। সেদিন নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলও ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন।

সবশেষ গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কুদ্দুস আবার আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বক্তব্য দেন।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আব্দুল কুদ্দুস বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর প্রতীক, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতীককে আমরা জয়যুক্ত করার চেষ্টা করব। আপনারা নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন লক্ষ্য করছেন। সেখানে ব্যাপকভাবে আমাদের নেতৃবৃন্দ যারা সংসদ সদস্য এমনকি মন্ত্রীরা পর্যন্ত যাচ্ছেন। …এখানকার ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ এবং আওয়ামী লীগ সবার কাছে অনুরোধ ১৬ তারিখের লড়াইয়ে আমরা যেন জয়যুক্ত হতে পারি। সেটাই হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি, এই ৫০ বছর পূর্তিতে নাটোর জেলার পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা নিবেদন।'

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নাটোর জেলা কমিটির সভাপতি খগেন্দ্রনাথ রায় ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নির্বাচনের যে বিধি আছে সেটা প্রধানমন্ত্রী হোক বা কোনো সাধারণ নাগরিক সবার মেনে চলা উচিত। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। যিনিই আইন ভাঙবেন তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।'

আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে সোমবার রাতে একাধিকবার আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

পরে মঙ্গলবার দুপুরে মোবাইল ফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'নারায়ণগঞ্জে দেখেন এমপিরা প্রচারণা চালাচ্ছেন।' 

সেখানকার রিপোর্ট কাগজে ছাপা হচ্ছে স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, 'নিউজে আসুক তাতে আপনার কী? না না সরি আপনি রাখেন!'

নাটোর পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আছলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস আবারও আচরণবিধি লঙ্ঘন করার বিষয়টি নজরে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের কমিশনার এবং সচিবকে এসব বিষয়ে জানানো হয়েছে। এমপির ভোট চাওয়ার বক্তব্য কমিশনের পাঠানো হয়েছে। এখন ব্যবস্থা নেওয়াটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার।'

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এসব কাজগুলো করার কথা রিটার্নিং অফিসারের। রিটার্নিং অফিসার যেহেতু করেননি। আমি অন্য আর একজন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করলাম। এসব অভিযোগ মাত্রই হাতে পেলাম। আমি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের একজন যুগ্ম সচিবকে নির্দেশনা দিয়েছি যেন এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে। সত্যতা পেলে আমরা ওই সংসদ সদস্যকে আদেশ জারি করব তিনি যেন এলাকায় না থাকেন।'