ফলাফল ঘোষণার পর ভোটকেন্দ্রে ককটেল হামলা, গাড়ি-মোটরসাইকেলে আগুন
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে একটি ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ ও প্রিসাইডিং অফিসারদের ৪টি মোটরসাইকেল এবং নির্বাচনের মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা।
সোমবার চিকন্দি ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বগাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হামলাকারীদের প্রতিহত করতে গেলে পুলিশের উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন ও কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।
প্রিসাইডিং অফিসার ইমাম হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিকাল ৫টার পর ভোটের ফলাফল ঘোষণা করার পর একদল দুর্বৃত্ত ভোটকেন্দ্র লক্ষ্য করে ককটেল বোমা ছুঁড়তে থাকে। তারা ৪টি মোটরসাইকেল ও ১টি পিকআপ ভ্যান গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, 'নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাফি বিন কবির, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা হামলাকারীদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেন এবং আমাদের উদ্ধার করেন।'
চিকন্দি ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে পরাজিত প্রার্থী হাফিজ উদ্দিনের সমর্থকরা এ হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বগাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ইমাম হোসেন ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন। সদস্য প্রার্থীদের ফলাফল ঘোষণার পর কেন্দ্রের বাইরে থাকা পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থকরা ভোটকেন্দ্র লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
জানতে চাইলে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'চিকন্দি ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে পরাজিত প্রার্থী হাফিজ উদ্দিনের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার পর থেকে হাফিজ উদ্দিন পলাতক।'
হামলার ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর ২ জনকে পুলিশ আটক করেছে। তারা হলেন-ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ কেবলনগর গ্রামের আজিবুর রহমান (৩৩) ও ধলু মাদবর (৫২)।
হামলার ঘটনায় প্রিসাইডিং অফিসার বাদি হয়ে মামলা করবেন বলে জানান ওসি।
হামলা ঘটনায় অভিযুক্ত পরাজিত সদস্য প্রার্থী হাফিজ উদ্দিনের মন্তব্য পেতে তার মুঠোফোনে কয়েক দফা চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।