পরিবারের সদস্যদের ভোট না পেয়ে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা
নিজের পরিবারে ৬ জন ভোটার থাকা সত্ত্বেও ইউপি সদস্য প্রার্থী মো. মানিকুর রহমান মানিক সর্বসাকুল্যে ভোট পেয়েছেন ৩টি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরদিন এই প্রার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছেন।
এমন ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায়। মানিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের ১০নং রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
গত ৫ জানুয়ারি, বুধবার ওই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
আপেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মানিকের বাড়ি ওই ইউনিয়নের বিজেশ্বর গ্রামে। মানিক দাবি করেন, তার মা এবং স্ত্রী তাকে ভোট দিয়েছেন। পরিবারের আর কেউ দেয়নি। এমনকি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত তার পোলিং এজেন্টরাও ভোট দেননি৷
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রামরাইল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৭ জন মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন টানা ৩ বারের নির্বাচিত মেম্বার আতিকুর রহমান। তার ভাতিজা মো. মানিকুর রহমান মানিকও আপেল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হন। তবে শেষ পর্যন্ত সিলিং ফ্যান প্রতীকের লুক্কু মিয়া এই ওয়ার্ডে বিজয়ী হন।
জানা যায়, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২টি ভোটকেন্দ্র। সেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২০৮৬ জন। বুধবারের নির্বাচনে দুটি ভোটকেন্দ্রে মোট ১৪২৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে লুক্কু মিয়া ৪৫১ ভোট পেয়ে মেম্বার পদে বিজয়ী হন। বর্তমান মেম্বার মানিকের চাচা আতিকুর রহমান পেয়েছেন ২০৮ ভোট।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মো. মানিকুর রহমান মানিক জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিনি একান্নবর্তী পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অপরদিকে তার চাচা আতিকুর রহমান বলেন, 'ভাতিজা মানিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় আমার ভোট ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তার প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই।'