পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচন: ৫ জেলায় ১০ জনের প্রাণহানি
পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো বুধবার। এ ধাপে দেশের ৭০৮টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ হলেও বেশ কিছু জেলা থেকে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ, জালভোট, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সহিংস ঘটনায় বগুড়ায় ৫ জন, চাঁদপুরে ২ জন, চট্টগ্রামে ১ জন, গাইবান্ধায় ১ জন ও মানিকগঞ্জে ১ নারী নিহত হয়েছেন।
বগুড়া
বগুড়ায় গাবতলী উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ৪ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বালিয়াদীঘির ইউপি নির্বাচন শেষে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলিবর্ষণ করে।
এতে ৪ জন নিহত হয় বলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন-মো. আলমগির, আব্দুল রশিদ, কুলসুম আক্তার ও খোরশেদ আকন্দ। নিহত কুলসুম এক নারী ইউপি ইউপি সদস্য প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, কেন্দ্রে ওই ইউনিয়নের ভোট গণনা না করে উপজেলা পরিষদে ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়ার সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ভাঙচুর করা হলে পুলিশ ও বিজিবি গুলিবর্ষণ করে।
এদিকে গাবতলী উপজেলায় রামেশ্বরপুর ইউপি নির্বাচনে ২ ইউপি সদস্যের প্রার্থীর সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত জাকির হোসেন গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়া লতিফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, 'ভোট চলাকালীন জাইগুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে ২ ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম এবং মিঠুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।'
সংঘর্ষে জাকিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চাঁদপুর
চাঁদপুরের কচুয়া ও হাইমচর উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় ২ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে পৃথক হামলায় তাদের মৃত্যু হয়।
জেলা পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ সন্ধ্যায় ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, বিকেলে কচুয়া সাচার নয়াকান্দি এলাকায় মেম্বার প্রার্থী জাকির হোসেনের সমর্থক শরীফ হোসেনকে (১৮) ছুরিকাঘাত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ দিকে হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাহেরচর এলাকায় বিকেল ৩টায় নৌকার প্রার্থী সালাউদ্দিন সরদারের সমর্থক ২৮ বছরের এক যুবক ছুরিকাঘাতে মারা যান। তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২ সদস্য প্রার্থীর সমর্থকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ২ সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে অংকুর দত্ত (৩৮) আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নিয়ে যাওয়া হয়।
চমেক পুলিশ ক্যাম্পের এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানিয়েছেন, দুপুর দেড়টার দিকে চমেকের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় জুম্মাবাড়ি ইউনিয়নের আদর্শ কলেজ ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সহিংসতায় ১ জন নিহত হয়েছেন। নিহত আবু তাহের (৪০) ওই ইউনিয়নের মামুদপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার জুম্মাবাড়ি ইউনিয়নের জুম্মাবাড়ি আদর্শ কলেজ কেন্দ্রে বাইরে ২ সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিকেলে পৌনে ৩টার দিকে আবু তাহেরের সঙ্গে এক প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আবু তাহেরের ওপর তারা হামলা চালায়।
পরে, হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় ভোটকেন্দ্রের পাশে ২ সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে সমেলা খাতুন (৫০) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন।
বুধবার দুপুরে উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের বাচামারা ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানিয়া সুলতানা।
তিনি বলেন, 'কেন্দ্রের পাশে দুই মেম্বার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই নারী ২ পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে মারা যান।'
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া, ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় কেন্দ্র দখল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে গণমাধ্যমের গাড়িতে হামলা, নোয়াখালীতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে ককটেল হামলা, শরীয়তপুরে ভোটকেন্দ্রে বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।