নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেন শামীম ওসমান

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নৌকার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। এজন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।

আজ সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে শামীম ওসমান আইভীর প্রতি সমর্থন জানান। সংবাদ সম্মেলনের ব্যনারে নৌকা প্রতীকও দেখা যায়।

নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিমালার ২২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচনপূর্ব সময়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন না। অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য।

বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন পূর্ব সময়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনি কাজে সরকারি প্রচারযন্ত্র, সরকারি যানবাহন, অন্য কোন সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ এবং সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের ব্যবহার করতে পারবে না।

এই বিধিমালা লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, 'নৌকার জন্য আমি এখনো নামি নাই। কাজ করেছি। নৌকার জন্য যেভাবে নামা উচিত আমার, সেভাবে নামতে পারিনি। তবে আজকে থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নামলাম। আমি মনে করি জয় আমাদের হবে। এ জয়গাটা নৌকার। আমাদের জনগনের কাছে যেতে হবে। শেখ হাসিনার নৌকাকে পাস করাতে হবে। পাস করাবোই।

এই সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশনের কাছে ক্ষমা চেয়ে শামীম ওসমান বলেছেন, 'আমার প্রেসকনফারেন্স করার কথা না, ঠিকও না। আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি নির্বাচন কমিশনের কাছে। আমি একজন আইন প্রণেতা। আইন প্রণেতা হয়ে আইন ভঙ্গ করা নিজের কাছেই নিজেকে অপরাধী মনে হয়।'

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'শামীম ওসমান একজন আইন প্রণেতা হয়ে আচারণবিধি লঙ্ঘন করেছে সেটা তিনি তার বক্তব্যেই বলেছে। যা সবাই শুনেছে।'

তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়ে কোনো কাজ হয় না। এর আগেও অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই নতুন করে অভিযোগ দিবো না। এখন নির্বাচন কমিশন যা ব্যবস্থা নেয় নিবে।'

নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মতিয়ুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নির্বাচনী আচরণ বিধিতে এ বিষয়ে উল্লেখ আছে। আপনারা নিউজ করেন। আমরা আমাদের মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'