কোন রাজনৈতিক দল কার নাম প্রস্তাব করেছে তা প্রকাশের দাবি সুজনের

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

কোন রাজনৈতিক দল কার নাম প্রস্তাব করেছে তা জনগণকে জানিয়ে সার্চ কমিটিকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) অনলাইনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনারদের একক প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে ৪ দফা দাবি নিয়ে এ আহ্বান জানা সুজন।

সার্চ কমিটির কাজ কীভাবে জনগণের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য করা যায় সে বিষয়ে লিখিত সুপারিশ পাঠ করেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, 'নির্বাচন কমিশনার হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবিত নাম প্রকাশের জন্য আমরা সার্চ কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু কোন রাজনৈতিক দল কার নাম প্রস্তাব করেছে তা প্রকাশ না করায় তারা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারেনি। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে তথ্যের অর্ধেক প্রকাশ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে না।'

নাগরিক প্ল্যাটফর্মটি ৪টি দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে, অনুসন্ধান কমিটিকে পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে বিরাজমান আস্থার সংকট দূর করার জন্য তার কার্যপদ্ধতি অবিলম্বে জনগণকে অবহিত করা। একইসঙ্গে কী মানদণ্ডের ভিত্তিতে ও কী পদ্ধতিতে কমিটি তার বিবেচনাধীন ব্যক্তিদের সুনাম যাচাই করবে এবং তাদেরকে অনুসন্ধান করে বের করবে তাও জনগণকে জানানো।

পরিপূর্ণ তথ্য প্রকাশ তথা কোনো কিছু গোপন না করার স্বার্থে অনুসন্ধান কমিটির প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত ৩২২ জনের (সঠিক সংখ্যা ৩১৫ জন) নামের পাশাপাশি প্রস্তাবকরারী ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের নাম প্রকাশ করা। প্রাথমিক তালিকা থেকে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারীসহ ২০-৩০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে তা প্রকাশ করা। এরপর সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের সংক্ষাৎকার গ্রহণ করা, তাদের সম্পর্কে শুনানি করা এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে তাদের সম্পর্কে তথ্য নেওয়া।

অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পরিপূর্ণ সতর্কতা ও যথাযথ বিবেচনাশক্তি কাজে লাগিয়ে একটি প্রতিবেদনসহ ১০ জনের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণের ৩ দিন আগে প্রতিবেদনটিসহ চূড়ান্ত তালিকা জনগণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা।

অনুসন্ধান কমিটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর কমিটির কাজের প্রসেডিংসহ একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন ও প্রকাশ করা। 

বদিউল আলম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নাম প্রকাশ করলে তারা বুঝতে পারবে যে ২০১৭ সালের মতো ক্ষমতাসীন দলের দ্বারা পূর্বনির্ধারিত লোকেরা আবার নির্বাচিত হয়েছে কি না।

তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক দলগুলোর নাম প্রকাশ না করলে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। যা সুষ্ঠু নির্বাচনের আশাকে ম্লান করে দেবে।'

সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, 'বিবেচনাধীন ব্যক্তিদের পরিচয়, প্রস্তাবক ইত্যাদি জানাতে হবে, তাহলে স্বচ্ছতার পথে অগ্রগতি হয়েছে বলা যাবে। নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থাটা নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে সে বিষয়ে কিছু হবে কি না সন্দেহ আছে, একটা ভালো নির্বাচন কমিশন অন্তত হোক।'

আইনবিদ শাহদীন মালিক বলেন, 'ভালো নির্বাচনের প্রথম ধাপ হিসেবে ভালো নির্বাচন কমিশন যেন হয়। এখন পর্যন্ত কমিটি যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আগের তুলনায় ভালো, কিন্তু শুধু নাম প্রকাশ না করে কোন দল কার নাম দিয়েছে, সেটাও প্রকাশ করা উচিত। এতে নির্বাচন সম্পর্কে দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা যাবে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, যদি দেখা যায় কোনো দল তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠজনদের নাম দিয়েছে, তাহলে বোঝা যাবে, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না, নিজেদের সুবিধামতো নির্বাচন করতে চায়। দলগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নাম দিয়েছে, নাকি নিজেদের সুবিধা হয়, এমন নাম দিয়েছে, তা বোঝাটা এখন খুবই জরুরি।