মিয়ানমারে ঝুঁকির মুখে শিশুরা, জাতিসংঘের শিশু অধিকার কমিটির উদ্বেগ

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

মিয়ানমারে শিশুদের অধিকার ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং এতে পুরো প্রজন্মের ক্ষতি হতে পারে বলে সর্তক করেছে জাতিসংঘের শিশু অধিকার কমিটি (সিআরসি)। আজ শুক্রবার সিআরসির এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে ৭৫ জন শিশু নিহত হয়েছে, প্রায় এক হাজার জনকে নির্বিচারে আটক করা হয়েছে এবং অগণিত আরও অনেক শিশু তাদের প্রয়োজনীয় চিকিত্সা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও পুলিশের হাতে নির্বিচারে শিশু হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিআরসি।

সিআরসির চেয়ারম্যান মিকিকো ওতানি বলেন, ‘সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে মিয়ানমারে শিশুদের অধিকার ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। শিশুদের প্রাণহানি হচ্ছে।’

শিশুদের ওপর সহিংসতা, এলোপাতাড়ি গুলি চালানো ও গ্রেপ্তারের নিন্দা জানান তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, মান্দালয় শহরে ছয় বছরের এক কিশোরীকে নিজ বাড়িতে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ তার পেটে গুলি করে। শিশুটি তার বাবার কোলে মারা যায়।

পুলিশ স্টেশন, কারাগার ও সামরিক আটককেন্দ্রে শিশুদের আটকের বিষয়েও শঙ্কা প্রকাশ করে সিআরসি বিবৃতিতে জানায়, সেনাবাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারলে, তাদের শিশুদের জিম্মি করছে। মান্দালয় অঞ্চলের পাঁচ বছরের এক কন্যা শিশুকে আটক করা হয়েছে, যার বাবা সেনা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনে সহায়তা করেছিলেন।

মিয়ানমারে শিশুদের চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যবস্থার অচল অবস্থা এবং গ্রামীণ অঞ্চলে শিশুদের নিরাপদ পানীয় জল ও খাবার সরবরাহ নিয়েও সিআরসি গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।

জাতিসংঘের শিশুদের সংস্থা ইউনিসেফের মতে, মিয়ানমারে ১০ লাখ শিশু প্রয়োজনীয় টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ৪০ হাজারেরও বেশি শিশু মারাত্মক তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।

সিআরসির চেয়ারম্যান মিকিকো ওতানি বলেন, ‘সামরিক অভ্যুত্থান ও দ্বন্দ্বের কারণে শিশুদের জীবনযাপনের অধিকার, বেঁচে থাকা এবং বিকাশ বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদি এই সংকট অব্যাহত থাকে, তবে একটি সম্পূর্ণ প্রজন্মের শিশুরা সুস্থ ও উত্পাদনশীল ভবিষ্যৎ থেকে বঞ্চিত হবে। তারা শারীরিক, মানসিক, শিক্ষামূলক ও অর্থনৈতিক মারাত্মক পরিণতির শিকার হতে পারে।’

মিয়ানমারের সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিআরসি।

উল্লেখ্য, সিআরসি শিশু অধিকার কনভেনশনে থাকা দেশগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে থাকে। ১৯৯১ সালে মিয়ানমার ওই কনভেনশনে সম্মতি জানায়।