তালেবানদের হত্যাকাণ্ডের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন রয়েছে: জাতিসংঘ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আফগানিস্তানে তালেবানদের হত্যাকাণ্ডের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার প্রধান মিশেল ব্যাচেলে। এ ছাড়া, আত্মসমর্পণকারী আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার মানবাধিকার কাউন্সিলের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেননি।

তবে, তিনি জেনেভা ফোরামকে তালেবানদের কার্যক্রম সম্পর্কে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন।

পাকিস্তান ও অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) অনুরোধে অনুষ্ঠিত জরুরি অধিবেশনে মিশেল ব্যাচেলে বলেন, 'সেখানে নারী ও কিশোরীদের প্রতি তালেবানদের আচরণ হবে "ফান্ডামেন্টাল রেড লাইন"।'

এ ছাড়া, কয়েক মাসের হত্যাকাণ্ড ও টার্গেট কিলিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, 'আফগানিস্তানের বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা সংঘাত ও নিপীড়নের ঝুঁকিতে ছিল।'

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের একজন সিনিয়র আফগান কূটনীতিক নাসির আহমদ আন্দিশা তালেবানদের কর্মকাণ্ডকে 'অনিশ্চিত ও ভয়াবহ' উল্লেখ করে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতার আহ্বান জানান।

এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, 'তালেবানরা ঘরে ঘরে তল্লাশি চালানোর কারণে অনেক মানুষ আত্মগোপনে আছেন। এ ছাড়া তাদের সম্পত্তি জব্দ ও প্রতিশোধ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।'

তবে, জেনেভায় জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত চেন জু বলেন, 'আফগানিস্তানে আমেরিকা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য জোটের অংশীদারদের সেনাবাহিনীকে তাদের সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্যও জবাবদিহি করতে হবে।'

যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক নাগরিক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালানোর জন্য নিন্দা জানিয়েছে। তবে, তারা তালেবানদের নাম উল্লেখ করেনি।

কাউন্সিল নির্যাতনের প্রতিবেদনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তানের জমা দেওয়া একটি খসড়া প্রস্তাব বিবেচনা করবে।

তবে, এতে তালেবানদের নাম উল্লেখ করা হয়নি, অথবা তদন্তের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়নি।

তার পরিবর্তে, এটি ব্যাচেলেকে ২০২২ সালের মার্চে অনুষ্ঠেয় ফোরামে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এবং সব পক্ষকে মানবাধিকার আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে 'নারী ও সংখ্যালঘুদের' পূর্ণ ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

উত্তপ্ত সমঝোতা আলোচনার মাঝে একজন পশ্চিমা কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, 'আমরা একটি শক্তিশালী সারবস্তুর প্রত্যাশা করছিলাম। তবে, এটি খুবই সামান্য এবং আমরা হতাশ।'

আফগানিস্তান স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান শাহরজাদ আকবর কাউন্সিলকে বলেন, 'বিশেষ অধিবেশনটি আফগানদের জন্য তাদের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিতে পারত যাতে তারা মুখ ফিরিয়ে না নেয়।'

এ ছাড়া, তিনি খসড়া পরিকল্পনাকে 'প্যারডি' বলে উল্লেখ করে তা খারিজ করে দিয়ে বলেন, 'দয়া করে এই অধিবেশনের একটি বিশ্বাসযোগ্য ও শক্তিশালী ফলাফল নিশ্চিত করুন।'