তালেবানদের সঙ্গে প্রতিদিন যোগাযোগ রাখছে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত বছর যেমন কাতারের দোহায় নিরপেক্ষ পরিবেশে তালেবানদের সঙ্গে আলোচনা করেছিল, এবারও তারা উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, এখন কাবুলে তালেবানদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা হচ্ছে। সেখানে আমেরিকান সামরিক কমান্ডাররা বিমানবন্দরের আশেপাশের নিরাপত্তা নিয়ে তালেবানদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
আজ শুক্রবার সিএনএনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার অ্যাডমিন পিটার ভ্যাসেলি কাবুল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং যারা দেশ ত্যাগ করতে চায় এমন আমেরিকান ও আফগান নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যে তালেবানদের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এখন পর্যন্ত আলোচনাগুলো মিশ্র ফলাফল দিয়েছে। মার্কিন সৈন্যরা কাবুল বিমানবন্দরে সুরক্ষা দেওয়ায় বিভিন্ন দেশে চলে যাওয়া নাগরিকদের জন্যে পরিচালিত ফ্লাইটগুলো সফলভাবে উড্ডয়ন করতে পেরেছে। তবে, মার্কিন দূতাবাস স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, তারা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর চেষ্টা করা আমেরিকানদের জন্য নিরাপদ প্রবেশপথ নিশ্চিত করতে পারবে না।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহিংসতা ও ভয়ে আফগানরা সেখানে বিপজ্জনক ভ্রমণের চেষ্টা করছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, তালেবানদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগের বেশ কয়েকটি চ্যানেল থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তারা এখনো স্পষ্ট নন যে কোন তালেবান কী নিয়ন্ত্রণ করে এবং নির্দেশনা যথাযথভাবে চেইন অব কমান্ড অনুসরণ করে দেওয়া হচ্ছে কি না।
এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা একজন কূটনীতিক সিএনএনকে বলেন, 'তালেবানের কমান্ড কাঠামো নিখুঁত নয়। সে কারণেই উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে করা কিছু চুক্তি অনুযায়ী রাস্তায় থাকা তালেবানদের বোঝানো যাবে না।'
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বাসকে বিমানবন্দরের চারপাশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং বর্তমানে বিমানবন্দরে যেতে না পারা আমেরিকানদের নিরাপদ প্রবেশের সুবিধার্থে কাবুলে পাঠানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের এক ব্রিফিংয়ে জানান, তাদের প্রত্যাশা জন বাস তালেবানদের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করবেন। সমস্যার সমাধান হলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং আটকা পড়া আমেরিকানদের উদ্ধারে বিমানবন্দরের বাইরে বিশেষ অপারেশন বাহিনী পাঠাতে হবে না।