চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াতে চান পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী

স্টার অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সদস্যরা পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদ থেকে পদত্যাগ ও ভোট বর্জনের পর ১৭৪ জন আইনপ্রণেতার ভোটে পাকিস্তান মুসলিম লিগ–নওয়াজের (পিএমএল–এন) প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরীফ গত ১১ এপ্রিল দেশটির ২৩তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, গতকাল প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। এ ছাড়াও, তিনি আরও গভীর সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে বেইজিংকে আশ্বস্ত করেছেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তার উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে এই অঞ্চলে উভয় পক্ষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগিয়ে যেতে চায়।

এর আগে, হোয়াইট হাউজের সচিব জেন সাকি জানান, পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই জরুরি বিষয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সরকার পরিবর্তনে ইন্ধন যোগানোর অভিযোগ আনলে ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়।

তবে ওয়াশিংটন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন করা পাকিস্তানের নতুন সরকারের বৈদেশিক নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।

নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে খানিকটা 'ধোঁয়াশা' দেখা দিয়েছে, তবে তার মানে এই না যে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া বার্তায় একই কথা বলা হয়েছে। সেখানে পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা আবারো জোর দিয়ে জানানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাগত জানানো হয় এবং বলা হয়, নতুন সরকার এই 'গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে' আরও গভীরে নিয়ে যেতে চায়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শাহবাজ শরীফকে অভিনন্দন জানিয়ে এক টুইটবার্তা পোস্ট করেন। এই বার্তার উত্তরে শাহবাজ এ অঞ্চলে শান্তি নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

'পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও পারস্পরিক সমঝোতার সম্পর্ক চায়। এ ক্ষেত্রে জম্মু ও কাশ্মীরসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ের শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো বিকল্প নেই', যোগ করেন তিনি।

চীনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স প্যাং চুনহুই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজের সঙ্গে দেখা করলে তিনি (শাহবাজ) দুই দেশের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

শাহবাজ আরও জানান, তার সরকার চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) প্রকল্পগুলোর কাজের গতি আরও বাড়িয়ে একে চীন ও পাকিস্তানের বন্ধুত্ব ও নিবিড় অংশীদারিত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চান। এ ছাড়াও, তিনি শিল্প, কৃষি ও ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতে চীন থেকে আসা বর্ধিত বিনিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।